ঢাকা রাত ৩:৪৬, সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় ১২ তম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের  ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও মেধাতালিকায় ১২তম হয়েছেন এ শিক্ষার্থী। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধান বলছেন, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে বা ভুলবশত অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর রোলের জায়গায় অন্য কোনো পরীক্ষার্থী রোল লিখে উত্তরপত্র পাঠাতে পারে।

জানা যায়, ৮ নভেম্বর (শুক্রবার) বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মো. সাজ্জাতুল ইসলাম নামের একজন আবেদনকারী ছিল। কেন্দ্রীয় সিট প্ল্যান অনুযায়ী তার সিট পড়ে কোটবাড়ির  টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে। কেন্দ্রের সিট প্ল্যান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার্থীর নাম  মো. সাজ্জাতুল ইসলাম। বাবার নাম মো. রেজাউল করিম, মাতা শামসুর নাহার বেগম। ভর্তি  পরীক্ষায় রোল নাম্বার ২০৬০৫০।

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার হলে সরবরাহ করা উপস্থিতির  তালিকায় স্বাক্ষরের ঘরে সাজ্জাতের কোনো স্বাক্ষর নেই। তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর প্রকাশিত ‘বি’ ইউনিটের ফলাফলে দেখা যায়, ২০৬০৫০ রোল নাম্বারধারী পরীক্ষার্থীটি ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) মেধাতালিকায় ১২তম স্থান অধিকার করেছে।

এবিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভর্তি পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রে কোনো শিক্ষার্থী ভুলবশত অথবা জালিয়াতির উদ্দেশ্যে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর  রোল লিখেছে যা কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের অবহেলার কারণে ঘটতে পারে।

এ বিষয়টা আমাদের নজরে আসার পর ভাইভাতে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সে ভাইভা  দিতেও আসেনি। এখানে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কোনো দায় থাকতে পারে না। আমরা নিরাপত্তার  স্বার্থেই বিষয়টি কমিটির সদস্যদের মধ্যে গোপন রেখেছিলাম। একই কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, আমরা অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর রোল  নাম্বার ফলাফল প্রকাশের পরে জানতে পেরেছি। আমরা ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তার  বিষয়টি খতিয়ে দেখি এবং সাক্ষাৎকারের সময় অনুপস্থিত থাকায় তাকে আমরা ধরতে ব্যর্থ হই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, অনুপস্থিত  শিক্ষার্থীর নাম মেধাতালিকায় চলে আসার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ