ঢাকা রাত ৪:৫২, বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ইলিশ রফতানি করবেনা সরকার

ঢাকার খুচরা বাজারে ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ১২শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০১৯’ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাববে তিনি এ দাবি করেন।

দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। তবে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের খুব একটা সুযোগও নেই। ভারতে রফতানি করা ইলিশের দাম ৫০০ টাকা কেজি হলেও বাংলাদেশে একই মানের ইলিশের দামে বেশি -এ বিষয়ে কোনো নজরদারি আছে কি না? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নাজরদারি আছে। আমাদের দেশে পাইকারি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি। কোথায় এ দামে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে -জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সোয়ারী ঘাটে যান, বিভিন্ন ঘাটে যান, পাইকারিতে ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এটা কয়েকটা হাত বদল হয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খুচরা বাজারে দামটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘মৎস্য আহরণের পরে আমাদের ল্যান্ডিং স্টেশন আছে যেখানে জেলে ভাইয়েরা মাছ বিক্রি করে। সেখানে ৩০০ টাকা কেজিতেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নন, ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে আমাদের জেলে ভাইয়েরাও অনেক খুশি।

তাহলে জনগণকে কেন অনেক বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা ঢাকাতে এসে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে হচ্ছে। তবে নজরদারি রয়েছে। আগে তো প্রতিকেজি ইলিশ আড়াই হাজার টাকাই ওঠে গিয়েছিলে। এখন এটা তো নেমে এসেছে। ইলিশ রফতানির কোনো চিন্তা আছে কি না? জানতে চাইলে আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘এ মুহূর্তে ইলিশ রফতানি করার চিন্তা সরকারের নেই। আগে দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত হলে রফতানির কথা চিন্তা করব। হয়তো আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, আমরা ৫০০ টন ইলিশ ভারতকে দিয়েছি। এটা কিন্তু শুভেচ্ছা স্বরূপ, পূজার সময় পশ্চিমবঙ্গে আমরা দিয়েছি বাঙালিদের শুভেচ্ছা হিসেবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইলিশের চাহিদা কত? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চাহিদার তো কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কারণ, আমরা ভাতে মাছে বাঙালি।

শুধু ইলিশ নয়, সব ধরনের মাছ আমরা গ্রহণ করি। তবে বর্তমানে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ ১৭ টন।’ ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, এই সময়ে মা ইলিশ ডিম পাড়ে। ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম পাড়ে। তারা ডিম পাড়ে মূলত মিঠাপানিতে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চারদিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন মোট ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলা ও নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্রধানত আশ্বিনের পূর্ণিমার চারদিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন পর্যন্ত সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। এ সময় ইলিশ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলেদের খাদ্য সহযোগিতা দেয়া হবে জানিয়ে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছ ধরায় বিধিনিষেধের ফলে ইলিশ মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। মৎস্য খাতের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ইলিশ মাছের যে আকাল ছিল, এখন আর তা নেই।

তিনি বলেন, এই ২২ দিন মাঠপর্যায়ে অভিযানে সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অতিরিক্ত ৪৭ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে সহযোগী সকল সংস্থার প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাতীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজননকালে অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৩৬টি জেলার সকল নদ-নদীতে দিনে ও রাতে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং মৎস্য অধিদফতর সম্মিলিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছর ইতোমধ্যে মা-ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ৩৫ জেলার ১৪৭ উপজেলায় মোট চার লাখ আট হাজার ৩২৯টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট আট হাজার ১৬৭ মেট্রিকটন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইলিশ আহরণ ২২ দিন নিষিদ্ধকরণের ফলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছর প্রায় ৪৮ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সক্ষম হচ্ছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/শ

এ বিভাগের আরও সংবাদ