ঢাকা রাত ৩:৩৬, সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এমনও দিন যায় তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দিনে ১২ ঘণ্টা না ১৪ ঘণ্টা কাজ করি, তার হিসাব নাই। এমনও দিন যায় রাতে তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। যখনই কাজ আসে আমরা করে যাই। আমি মনের টানে কাজ করি।’

বুধবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ফখরুল ইমাম তার সম্পূরক প্রশ্নে ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস নামের একটি সংস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের তৃতীয় সৎ ও পরিচ্ছন্ন সরকার প্রধান এবং বিশ্বের চতুর্থ কর্মঠ সরকার প্রধান হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রসঙ্গ তুলে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুভুতি জানতে চান।

ফখরুল ইমাম তার প্রশ্নে ওই প্রতিষ্ঠানের গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ওই অনুসন্ধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার সরকারের দুর্নীতি হওয়ায় তিনি নম্বর কম পেয়েছেন। ১৭৩ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকার প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। ৫ টি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং ৮৮ পেয়ে সৎ সরকার প্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫ নম্বর পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ সৎ সরকার প্রধান বিবেচিত হয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলাবার্গ। আর ৮১ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কি পেলাম, কি পেলাম না, সেই হিসাব মিলাতে আমি আসিনি। সেই হিসাবটাও আমার নাই। আমার একটাই হিসাব এই বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের কতটুকু কাজ করতে পারলাম সেটাই আামার কাছে বড়।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই যাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাদের দেশে জনসংখ্যা কত? আর আমার দেশের জনসংখ্যা কত? এটা যদি তারা একটু তুলনা করতেন তাহলে হয়তো অন্য হিসাব আসতো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই ছোট্ট ভূখণ্ডে ৫৪ হাজার বর্গ মাইলের মধ্যে ১৬ কোটির ওপর মানুষ বসবাস করে। আমাদের দেশের পরিবেশটা তো আলাদা। ১ নম্বর ২ নম্বর বা ৪ নম্বরে যারা আছেন তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন হারাতে হয়নি বা নির্যাতিতও হতে হয়নি। জেলে যেতে হয়নি। মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়নি। এমনকি বার বার মৃত্যুর মুখে দাঁড়াতে হয়নি। এখানে একজনকেও কিন্তু আমার মতো গ্রেনেড হামলার শিকার হতে হয়নি। আমার জীবনের ওপর বার বার হামলা এসেছে। এরকম যদি এদের ওপর একবারও হতো তাহলে অনেকেই ঘরে বসে থাকতো।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, জীবন তো চলেই যাবে। আমাদের দেশে যে প্রতিকূলতা, সেই প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের যেতে হয়নি। আমাদের দেশে গণতন্ত্র ছিল না। তা ফিরিয়ে এনে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ