ঢাকা ভোর ৫:৩৪, শুক্রবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কেউ কি আছেন?

সময় কখনো থেমে থাকে না। করোনা রোগীর সংখ্যাও থেমে নেই। হু হু করে বেড়েই চলছে প্রতিদিন। সীমিত আকারে লকডাউন উঠিয়ে দিয়ে এখন আবার বিভিন্ন জোনে ভাগ করার চিন্তা করা হয়েছে বিভিন্ন জায়গাকে।

সিদ্ধান্তগুলো হুট করে পরিবর্তন হওয়ার মত করে যদি এই করোনা মুহূর্ত পরিবর্তন হয়ে নতুন একটা পৃথিবী দেখতে পেতাম; যেখানের আর কোন করোনা রোগী নেই, নেই কোন মৃত্যু,নেই কোন ভীতি তাহলে কি ভালোই না হতো! এরকম পরিস্থিতিতে এরকম চিন্তা দিবা স্বপ্নের মত লাগছে।

যেখানে হু হু করে রোগী বেড়েই যাচ্ছে কিন্তু পেটের তাগিদে মানুষ ছুটে যাচ্ছে কিছু টাকার জন্য, নিজের আশ্রয়টাকে বাঁচাবার জন্য। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে আইসিইউ না পেয়ে,প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে রোগীরা রাস্তায়ই মারা যাচ্ছে।

মৃত্যুর পর করানো হচ্ছে করোনা টেস্ট! এতে যে রোগীটি মারা গেল সে নিজের অজান্তে তার পরিবার, আশেপাশের লোকজনকে যে আক্রান্ত করে গেল তা রোগীর মৃত্যুর পর জানা যাবে।

পানি পানের পর কেউ যদি এসে বলে সে পানিতে বিষ ছিল তখন যেরকম লাগবে সেই রকম বোধহয় অনুভব করছেন রোগীর আশেপাশের মানুষেরা।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে কিন্তু পর্যাপ্ত আইসিইউ না থাকায় রোগী ভর্তি করানো যাচ্ছে না।

করোনা ধনী-গরিব কাউকেই ছাড়ছে না। একটু ভুলে ঢুকে যাচ্ছে চেনা শত্রু নিজের পরিচিত শরীরে। যাদের টাকা আছে তারা থাকছে ভালো কোন বেসরকারি হাসপাতালে আর যারা দেশের মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত তারা মরছে রাস্তায়; আইসিইউ, অক্সিজেন এর অভাবে।

কিন্তু যাকে নিয়ে কথা চলছে যে নিজের শ্রম মেধা দিয়েই তার সম্মান অর্জন করেছেন। এদেশের কৃতি সন্তান। অনেকবার তার খেলা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। তার নাম আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

বাংলাদেশে জাতীয় ক্রিকেট দলে একজন লেগ স্পিনার হিসেবে খেললেও তিনি আসলে একজন অল-রাউন্ডার। এই করোনা সময়ে তার বাবা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। যেটা করোনার একটি লক্ষণ।

তাই, কোন হাসপাতাল তার বাবাকে ভর্তি নেয় নি। পরবর্তীতে, বাংলদেশের আরেক খেলোয়াড় তামিম ইকবাল ফোন করে বলে দেয়ায় তার বাবা ভর্তি হতে পেরেছেন। আমাদের দেশে প্রত্যেকে খেলোয়াড় না বা সেরকম পর্যায়ে সবাই না অথবা সবার পরিচিত থাকবে সেরকমও নয়।

একজন বাংলদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের তো অধিকার রয়েছে মৌলিক অধিকারগুলো পাওয়ার! তাহলে আমরা কেন পাচ্ছি না! আজ আমিনুল তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পেরেছে তামিমের ফোনের কারণে কিন্তু এরকম আরো সহস্র আমিনুল তো তার বাবাকে নয়তো তার মাকে নয়তো তার ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরছে রাস্তায় রাস্তায়। তাদের চিৎকার কিন্তু সেই উপর তলায় পৌঁছবে না।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আগের তুলনায় বাজেট বাড়ানো হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরেও বাজেট দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত।

তিনি সুস্থ হয়ে উঠুক সেটাই আমাদের সবার কাম্য। কিন্তু তার সময়ে যে বাজেট বরাদ্দ ছিল স্বাস্থ্য খাতের জন্য সে বাজেটের টাকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি আমাদের কাঙ্খিত সেবার দিতে তৎপর হবে? তার সমালোচনাও বহুদিন ধরেই হচ্ছে। মানুষ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

মানুষের ভুল হতেই পারে কিন্তু এরকম দায়িত্ববান জায়গায় থেকে তিনি যেরকম কাজ করে যাচ্ছেন তা আমাদের বেশিদূর যাওয়ার আশা দেখাতে পারছে না।

তিনি সম্প্রতি একটি লাইভ অনুষ্ঠানে, ফার্মাসিস্টদের কাজের ক্ষেত্র ফার্মাসি চালানো এরকম ধাঁচের মন্তব্য করেছেন। আমরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় নূন্যতম মৌলিক অধিকারগুলো পেতে চাই।

আমাদের প্রশ্নগুলো শোনার জন্য কেউ কি আছেন? আমরা বড় অসহায় হয়ে পড়েছি। আমাদের টাকা নেই, আমাদের দুর্ভাগ্যক্রমে উপর মহলের কারো সাথে যোগাযোগ নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আছে আবেদন থাকবে, আমাদের কথা দয়া করে শুনুন, এর একটা বিহিত করুন। আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চাই না।

 

লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিভাগের আরও সংবাদ
//luvaihoo.com/afu.php?zoneid=3354715