ঢাকা রাত ১০:১৬, শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং, ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সর্বোচ্চ সতর্কতায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে সচল হোক সব অর্থনৈতিক কর্মকান্ড

করোনা থেকে বেঁচে ক্ষুধায় মৃত্যু চাই না

গোটা বিশ্ব থমকে গেছে করোনাভাইরাসের কারনে। গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। এরপর মাত্র পাঁচ-ছয় মাসে গোটা বিশ্ব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে কোভিড ১৯ বা করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে মার্চ মাসে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ মেলে। আর প্রাণঘাতী ও ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি এবং অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়েছিল গত ২৬ মার্চ থেকে। এর পর সাত দফায় ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়। সেই ছুটি শেষ হচ্ছে অবশেষে। সাধারণ ছুটির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বুধবার এই সিদ্ধান্তটি এসেছে। শুধু তাই নয় সীমিত পরিসরে গণপরিবহনও চালু হচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত খুলছে না; চলাফেরায় বিধি-নিষেধও আগের মতো থাকছে। ঘরবন্দি থাকার এই সময়ে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিলের পর যখন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, তখন ঈদ কাটিয়ে অফিস ও গণপরিবহন চালু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে অফিস চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা বলা হলেও মূলত দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে এটি করাই ভালো হয়েছে বলে মানছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রথমেই চোখ রাখা যাক দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির দিকে। দুই মাসেরও বেশি সময় ছুটি পালন হলেও বাংলাদেশে কমেনি করোনার সংক্রমণ। বলা চলে দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে অবনতির দিকে। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই কমবেশি ২০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছে ২ হাজার ২৯ জন [২৮ মে, আইইডিসিআর]। সব মিলিয়ে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ হাজার। আর এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ৫৫৯ জন। সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে সরকার ৩০ মের পর ছুটি আর না বাড়িয়ে সবকিছু সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিধি কি সেভাবে মেনে চলা হচ্ছে? সীমিত আকারে সব খুলে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধির হালই বা কী হবে?তবে বাংলাদেশে দুই মাসের ছুটি বা অঘোষিত লকডাউনের অভিজ্ঞতা বলছে মানুষ নিজে সচেতন না হলে আসলে লকডাউন দিয়ে লাভ নেই। সবচেয়ে বড় কথা অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এবং জনজীবন স্বাভাবিক করতে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো এর মধ্যেই লকডাউন তুলে নিয়েছে বা শিথিল করেছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনাসহ বাংলাদেশে সবকিছু চালু করে দেয়ার মধ্যে আমি অন্তত দোষের কিছু দেখছি না। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল মানুষকে ঘরে রাখার জন্য। কিন্তু দেশের বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি। এখন সাধারণ ছুটি পরীক্ষামূলকভাবে তুলে নেওয়া হলেও এই সময়টিতে আমাদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যেসব দেশে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে, সেসব দেশের দিকে তাকালে কিছু বাস্তব চিত্র আমাদের সামনে উঠে আসে। লকডাউনের বিধি-নিষেধ শিথিল হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে জার্মানিতে। আবার সবাইকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না রেখে তিনটি মন্ত্র থ্রি সি মেনে কাজ করেছে জাপান : ‘ক্লোজড স্পেস’, ‘ক্রাউডেড স্পেস’ এবং ‘ক্লোজড কনট্যাক্ট’ থেকে দূরে থাকা। সর্বোপরি জাপানের রয়েছে সংক্রমণ শনাক্তে প্রশিক্ষিত জনবল, যাদের কাজে লাগিয়েছে দেশটি। লকডাউন তুলে নেওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো, দেশের মানুষ বন্দিদশা থেকে আপাত মুক্তি পেয়ে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জীবন ও জীবিকা এই দুটো বিষয় মাথায় রেখেই সীমিত আকারে অফিস-আদালত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য ভেতরে ভেতরে অবশ্য সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। অফিস খুললে কীভাবে চলতে হবে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আগেই ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার মধ্যে সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১১ মে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এই ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয়। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া, অফিস চালুর আগে অবশ্যই প্রতিটি অফিসকক্ষ, আঙিনা বা রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করা, প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার বা থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করানো, অফিসের পরিবহনগুলো অবশ্যই শতভাগ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা এবং যানবাহনে বসার সময় কমপক্ষে তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে অনেকাংশেই সুফল মিলবে। আর স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আসলে লকডাউনে রেখেও লাভ নেই।
সবচেয়ে বড় কথা হলো গত দুই মাস দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে। ছোট ছোট দোকানপাট চালানো ব্যবসায়ীরা, দিন মজুরসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছে সবচেয়ে বিপাকে। লকডাউন আর ছুটিতে এইসব মানুষকে হয়তো করোনা থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। কিন্তু ক্ষুধা থেকে কে বাঁচাবে। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা রয়েছে। কিন্তু ত্রাণ কোনোভাবেই ক্ষুধার চ‚ড়ান্ত সমাধান নয়। ফলে এইসব মানুষকে ক্ষুধার হাত থেকে বাঁচনোর জন্য সীমিত আকারে সবকিছু খুলে দেয়া ছাড়া আসলে আর কোনো উপায় ছিল না। করোনা সংক্রমণের হার যেমন অনেকে বেড়েছে, ঠিক তেমনি বেড়ে গেছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আর অসহায়ত্বও। লকডাউন করেও কিন্তু সংক্রমণ সেভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না। এখন স্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শ মেনে যদি ছুটি ও লকডাউন আরো বাড়ানো হয় এবং তখন যদি সমাজের একটা বড় অংশ শ্রেণী না খেয়ে মারা যায় এবং মনোবল ও কর্মনিষ্ঠা হারিয়ে ফেলে, তাহলে এর দায় কে নেবে। তাদেরকে আমরা ফেরানোর উপায় কী? সবচেয়ে বড় কথা হলো ক্ষুধা, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা যে কোনো সমাজব্যবস্থারই শৃঙ্খল ভেঙ্গে দেয়। অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। করোনাভাইরাসের কারনে গোটা বিশ্ব ব্যবস্থাই নড়ে ওঠেছে। একদিকে বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব অন্যদিকে দেশের আভ্যন্তরীণ সংকট। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য নিম্ন আয়ের, দৈনিক আয়ের ও ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীকে ঠিক রাখতে হবে। নইলে বিপদ বেড়ে যাবে অনেক বেশি। সরকার অবশ্য এর মধ্যেই নগদ অর্থ সহায়তাসহ নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দুই মাসের অঘোষিত লকডাউনের পর সব সীমিত আকারে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তটাও বোধ করি একই পরিকল্পনার অংশ।

লকডাউন সীমিত করে ফেলায় এর মধৌই শুরু হয়েছে জীবন ও জীবিকার গুরুত্ব নিয়ে বিতর্ক। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এ নিয়ে বিতর্ক করার কোনো মানেই নেই। কারণ একটি আরেকটির পরিপূরক। জীবন না বাঁচলে যেমন জীবিকা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়, তেমন জীবিকাবিহীন জীবনকে বাঁচানোও অসম্ভব। ফলে দুটির সমন্বয়েই বেঁচে থাকার কৌশল নিরূপণ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশই আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সহায়তার সূত্রে বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই করোনা মহামারীর বিশ্বব্যাপী অভিঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর নানাভাবেই পড়বে। অনেক ক্ষেত্রে এরমধ্যে পড়া শুরু হয়ে গেছে। রপ্তানি, আমদানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, পর্যটন শিল্প, রেমিট্যান্স, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি, রেভিনিউ ইত্যাদির ওপর করোনাভাইরাসের অভিঘাত এখনই দৃশ্যমান। রপ্তানি খাতে বেশ কিছু দিন ধরে সমস্যা যাচ্ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বিগত বছরের তুলনায় রপ্তানি ৪.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ সময়ে তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি কমেছে ৫.৫ শতাংশ। করোনা আক্রমণের পর সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি পোশাক খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। আমদানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রায় সাত মাসে আমদানির বিপরীতে মূল্য পরিশোধ ২.২ শতাংশ কমে গেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস পাওয়ার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। চীন থেকে কাঁচামাল না আসায় অনেক কারখানা তালাবদ্ধ করতে হয়েছে। তবে আমদানি হ্রাসের তুলনায় রপ্তানি আয় হ্রাস অধিকতর হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দাঁড়িয়েছে (-)৮.২ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর থেকে দশমিক ৪ বিলিয়ন বেশি। বিডাসূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন মাসে বাংলাদেশে কোনোরূপ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসেনি। জি-২০-এর এক ঘোষণায় জানা গেছে, করোনা আক্রমণের কারণে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো প্রায় ৮৩ হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। রাজস্ব ঘাটতি বাড়বে বলেই মনে হয়। গত বছরের ৮৭ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির বিপরীতে এ বছরের ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে কোনো কোনো থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আভাস দিয়েছিল। প্রথম আট মাসে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। করোনার কারণে এ ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছে। ব্যবসায়ী মহল থেকে ইতিমধ্যে নানারূপ কর সুবিধা দেওয়ার দাবি আসছে, যার মধ্যে অনেকটিই যৌক্তিক কারণে দিতে হবে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কেনাকাটার কারণে কোনো কোনো অঞ্চলে সাময়িক মূল্যস্ফীতি ঘটেছিল, তা আবার স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, কোনো কোনো খাদ্যপণ্যের (শাকসবজি) দাম ক্রেতার অভাবে শহরাঞ্চলে বেশ হ্রাস পেয়েছে। খাদ্যশস্যের মজুদ যথেষ্ট থাকায় এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মার্চের ২৬ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল বেশ উদ্দীপনামূলক। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এ খাতে +২১.৫ শতাংশের প্রবৃদ্ধি সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয়। তবে এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে, আমাদের রেমিট্যান্সের দুই-তৃতীয়াংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। করোনা মহামারীর কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, মূল্যও কমেছে বেশ। তাই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কর্মীর চাহিদা হ্রাস পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ঠিক কতদিন তার তাণ্ডব চালিয়ে যাবে, বিশ্বের মানুষ, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার কত পরিমান ক্ষতি করবে তা এখনো কেউ জানে না। কারণ ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন কিছুই নেই। ভয়ঙ্কর ছোয়াচে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রায় গোটা বিশ্বই এখন ঘরবন্দী। ৭৭৮ কোটি মানুষের বিশ্বে এখন প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ ঘরবন্দি, ২১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস- করোনা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও দেশ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করছে, পূর্বাভাস দিচ্ছে।

কোনো পারমাণবিক বোমার তাণ্ডব নয়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়, এমনকি দৃশ্যমান কোনো শত্রু নয়; শুধু একটি অণুজীব- যার প্রভাবে পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষেরা এতটা অসহায় হয়ে গেল যে, সামনে যেন তাদের সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। নিকট অতীতে, এমনকি দূর অতীতেও মানবসভ্যতা এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়নি। ক্ষুদ্র একটি অণুজীব সৃষ্টির সেরা মানবজাতিকে তার ক্ষুদ্রতা ও নগণ্যতার কথা মনে করিয়ে দিল। সব আলোচনা এক বিন্দুতে গিয়েই মিলছে। সব স্থবির রেখে জীবিকা চালানো যাবে না। আর সব খুলে দিয়ে জীবনকে হুমকির মুখেও ফেলা যাবে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি, সরকারি নির্দেশনা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। রোববার থেকে সীমিত পরিসরে সব চালু হলেও আমরা যেন হুমড়ি খেয়ে না পড়ি। বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হয়ে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলি। আমাদেরকে বাঁচানোর জন্য, আমাদের জন্যই এমন ছুটি-লকডাউন কিংবা সব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত। তাই সরকারি সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অবলম্বন করতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

  • মেহেদী হাসান বাবু লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, আজকের বিজনেস বাংলাদেশ

আরো পড়ুন:

হুজুগে গুজবে আমরা: সোশ্যাল মিডিয়ার এপিঠ ওপিঠ

করোনাভাইরাস ও আম্পানকালীন ঈদ: আসুন আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই

 

এ বিভাগের আরও সংবাদ
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3354715