ঢাকা বিকাল ৩:৪০, শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হলো ৬৫ লাখ পিপিই

বিশ্বমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই) উৎপাদনকারী দেশের কাতারে যোগ দিল বাংলাদেশ। দেশের টেক্সটাইল খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্র্যান্ড বেক্সিমকো গতকাল সোমবার (২৫ মে) মার্কিন ব্র্যান্ড হেইনস-এর কাছে ৬৫ লাখ পিপিই গাউনের একটি চালান পাঠিয়েছে। চালানটি পৌঁছবে মার্কিন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ফেমা) কাছে।

সোমবার চালান হস্তান্তরের মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার। তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বেক্সিমকোর তৈরি পিপিই’র ওই চালানটির বিদায় জানান।

কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী এক নজিরবিহীন মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে পিপিই’র প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই বেক্সিমকো দ্রুতই তাদের উৎপাদন সক্ষমতাকে ব্যবহার করে গাউন, মাস্ক ও কভার তৈরির মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক এ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হয়।

বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গ্রুপ পরিচালক সৈয়দ নাভেদ হোসেনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চালান হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে বিশ্বের কার্যপদ্ধতি পাল্টে গেছে। তাই বেক্সিমকোকেও জরুরিভিত্তিতে সক্রিয় হতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পিপিই উৎপাদনের নতুন কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়ার জন্য জুতসই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এতে একদিকে যেমন বিশ্বব্যাপী মানুষ নিরাপদে থাকবে, অপরদিকে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনীতিও সচল থাকবে। দেশের গার্মেন্ট খাতের ৪১ লাখ শ্রমিকের বিশাল কর্মীবাহিনীও ভালোভাবে জীবনযাপন অব্যাহত রাখতে পারবে।

বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের প্রধান নির্বাহী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকে এ প্রতিকূল পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চান, জীবন বাঁচাতে চান। বেক্সিমকো এক্ষেত্রে পথ দেখিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকোর অবদানের প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো বাকি বিশ্বও মহামারির সাথে লড়াইয়ে এক কঠিন সময় পার করছে। এমন এক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ মাত্র দুই মাসের মধ্যে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রফতানি করছে; তাও আবার ১০/২০ হাজার নয় ৬৫ লাখ পিস। এ এক অভাবনীয় অর্জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3354715