ঢাকা রাত ১১:১২, শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনায় সেই ম্যাচের ৪১ দর্শকের মৃত্যু

গত ১১ মার্চ অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর ম্যাচে যে ৫২ হাজার দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্য থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন অন্তত ৪১ জন। এছাড়া সংক্রামিত হয়েছেন আরও কতজন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

অ্যানফিল্ডে লিভারপুর আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ম্যাচের সময় স্পেনে করোনাভাইরাস পুরোদমে ছড়িয়ে পড়লেও ইংল্যান্ডে তার ভয়ঙ্কর ছাপ তখনো পড়েনি। ওই ম্যাচ দেখতে মাদ্রিদ থেকে তিন হাজার সমর্থক এসেছিলেন লিভারপুলে।

ধারণা করা হচ্ছে, স্প্যানিশ দর্শকদের থেকেই গ্যালারিতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্টিনো কয়েক‌দিন আগেই বলেছিলেন, ‘‌ওই ম্যাচ দেখতে আমাদের সমর্থকদের ইংল্যান্ডে পাঠানো উচিত হয়নি।’‌

এনএইচএসের গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর ইংল্যান্ড জুড়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, মার্চ মাসের শুরু থেকেই পাব, হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের অনেক খেলার মাঠে দর্শক ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন কেন অ্যানফিল্ডের ওই ম্যাচকে দর্শকহীন করা হল না?‌

তাহলে এই ৪১ জনের মৃত্যু হয়তো হতো না। এমনকি জ্যামিতিক হারে যে সংক্রমণ ঘটে, সেটাও হয়তো অনেক কম ঘটতো। শুধু ওই ৪১জন কেন, অ্যানফিল্ডের ওই ম্যাচের কারণে যে কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে, তাতে যে আরও কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার কোনো সঠিক হিসেব নেই।

ইংল্যান্ডের মাঠে ওটাই ছিল দর্শকভর্তি মাঠে শেষ কোনও ম্যাচ। সে অর্থে ওই ম্যাচের পর আর বড় কোনও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের গোলে লিভারপুলকে হারিয়েছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

স্টেডিয়ামের দর্শক থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার প্রথম ঘটনাটা অবশ্য প্রকাশ্যে আসে ইতালিতে। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ হয়েছিল আটলান্টার সঙ্গে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার। ওই ম্যাচে ৪৪ হাজার দর্শক মাঠে ছিলেন। ওই শহরের মেয়র পরে দাবি করেন, ‘‌স্টেডিয়ামে সেদিন বায়োলজিক্যাল বম্ব রাখা হয়েছিল। ওই ম্যাচের দর্শকরা পরবর্তীতে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রামিত করে দিয়েছিলেন।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3354715