ঢাকা রাত ৯:৪১, শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব

বিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান

বিজ্ঞানকে আরো জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধ করণের লক্ষ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালের দিকে। প্রতিষ্ঠার দু’বছরের মধ্যে ক্লাবটি জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের অধীনে অধিভুক্ত হয়। সংগঠনটির নানা কার্যক্রমে অল্প সময়ের মধ্যে বিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রামণের ফলশ্রুতিতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবকিছুথেমে গেছে, থেমে গেছে ব্যস্ততার সেই দিনগুলো। কিন্তু থেমে নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের কার্যক্রম। করোনার দিনগুলোতেও অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটির সার্বিক কার্যক্রম। ইতিমধ্যে তিনটি প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। আয়োজন করতে যাচ্ছে আরো কিছু প্রোগ্রাম। করোনাকালে সংগঠনটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে মো.উমর ফারুক-

 

ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরে লকডাউনের প্রথমদিকে স্কাইপে মিটিং করে করণীয় ঠিক করার মধ্য দিয়ে কাজ শুরু করে সংগঠনটি। ফেসবুক পেইজে,গ্রুপ, লিংকডইন পেইজ, টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত করোনা সচেতনতামূলক বিভিন্ন কন্টেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। কন্টেন্টগুলোর মধ্যে লকডাউনে কি কি করণীয় এবং বর্জনীয় সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। নিয়মিত জুম অ্যাপসের মাধ্যমে আয়োজন করা হয় আড্ডা। যেখানে উপস্থিত থাকেন সংগঠনটির অর্গানাইজার থেকে সাবেক প্রায় সকলেই। ক্যাম্পাসের মতো এখানে মিটিং সাধারন সম্পাদক সঞ্চালনা করেন, পরিচালনা করেন সভাপতি।

দেশে লকডাউনের শুরু হওয়ার পরবর্তী সময়ে সায়েন্স ক্লাব ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ নামে প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। উক্ত প্রতিযোগিতায় ক্লাবের সদস্য এবং অর্গানাইজারগণ অংশগ্রহন করেন। বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে সেরাদের প্রাথমিক ভাবে বাছাই করা হয়। পরববর্তীতে তারা ভিন্ন ধরনের সায়েন্টিফিক ভিডিও,নাচ, কবিতা,চিত্রশিল্প উপস্থাপন করে। সেখান থেকে ৩ জন বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়। সংগঠনটির দ্বিতীয় প্রোগ্রাম ছিল কোভিট-১৯ নিয়ে জনসচেতনতা।

যেখানে জনসাধারণ এর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় সচেতনতামূলক ভিডিও। এই ভিডিও গুলো মানুষের মাঝে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। অন্যান্য বছরের মতো এবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করতে না পারলেও অনলাইনের মাধ্যমেই এ দিবসটি পালিত হয়েছে একটু ভিন্ন ভাবেই। যেখানে অংশগ্রহণ করে সংগঠনটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ সকল সদস্য এবং অর্গানাইজারগণ।
পরবর্তীতে সংগঠনটি আয়োজন করতে যাচ্ছে সায়েন্স ক্লাব কমিউনিকেশন কনটেস্ট। যেখানে বিজ্ঞানধর্মী বিষয়ের উপর সংগঠনের সকল সদস্যরা কয়েক মিনিটের ভিডিও উপস্থাপন করবেন। প্রতি বিষয়ে এক জন করে সেরা নির্বাচিত করা হবে। সেরা সাত জনের মধ্য থেকে সেরা তিন জনকে নির্বাচন করা হবে।

সেরা তিনজনের জন্য থাকবে প্রাইজ মানি এবং প্রথম নির্বাচিত সাতজনকে দেয়া হবে ক্রেস্ট। তাছাড়াও অংশগ্রহণকারী সবার জন্য থাকবে সংগঠনের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট। এর পরবর্তী ২৯ মিনিটের লাইভ শো নামে একটি ভিন্নধর্মী প্রোগ্রাম আয়োজন করার কথা রয়েছে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বনামধন্য স্পিকারগণ। প্রতি সপ্তাহে এক বার করে আয়োজিত হবে এই প্রোগ্রামটি। আর যতদিন না ক্যাম্পাস খোলা হবে ততদিন এভাবেই তাদের সংগঠনের সার্বিক কাজগুলো অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

মাহাদী হাসান, সভাপতি, সায়েন্স ক্লাব, রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিজ্ঞানের প্রচারে কাজ করে আসছে। কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরে সবাই মিলে বছরের বিভিন্ন প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করি। ইতিমধ্যে দুটি প্রোগ্রাম- অমর একুশে গ্রন্থকুটির নামে বই মেলা আর সদস্য সংগ্রহের কাজটি সম্পন্ন করেছি। এরপরই বঙ্গবন্ধু ক্যামিকেল মেট্রোলজি অলেম্পিয়াড প্রোগ্রামের কাজ শুরু করি। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছু দিন আগে করোনা পরিস্থিতির জন্য প্রোগ্রাম স্থগিত হয় পাশাপাশি ক্যাম্পাসও বন্ধ হয়। প্রথমদিকে ছুটি অল্পদিন হবে ভেবে তেমন কোন কাজ করা হয়নি। এরপর সচেতনতামূলক একটা প্রোগ্রাম হাতে নেই। অনলাইনে মিটিং করি, শুরুতে নতুন এই পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়। নতুন আরো দুইটা প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে যেগুলো এ মাসে সম্পন্ন হবে।

মো.ইসতেহার আলী, সাধারণ সম্পাদক, সায়েন্স ক্লাব, রাবি

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের (কোভিট-১৯) জন্য সারা বিশ্ব আজ স্থবির। বিশ্বে অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। যেহেতু পৃথিবীতে করোনা নিরাময়ের জন্য এখনও ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়নি তাই আমাদের সচেতন বেশি হতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব কোভিড-১৯ নিয়ে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ভিডিও, প্রতিদিন পেজে আপডেট দিয়ে মানুষদেরকে সচেতন করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে বাংলাদেশের মানুষ সচেতন হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা এবং তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি ।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

এ বিভাগের আরও সংবাদ