ঢাকা সকাল ৯:২৭, মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগকালীন এক মাসের বাড়িভাড়া অর্ধেক করুন

সারাবিশ্বে হানা দিয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস। আমাদের বাংলাদেশও বাদ পড়েনি সেই তালিকা থেকে। আর এই ভাইরাসের প্রকোপে সারাদেশের মানুষ আজ গৃহবন্দী অবস্থায় দিন পার করছে।

 

রাজধানীতে অবস্থানরত বিপুল জনসংখ্যার সিংহভাগ জনগোষ্ঠী ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। পাশাপাশি এই দুর্যোগকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সারাদেশের বিভিন্ন মেস কিংবা বাসায় ভাড়া থাকা শিক্ষার্থীরা। কারণ এসমস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই টিউশন কিংবা খণ্ডকালীন চাকরি করে বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করতেন। কিন্তু এই মুহূর্তে সবকিছু বন্ধ। ফলে বলা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একটা সহজ সমীকরণ যদি আপনি করেন তাহলে দেখতে পাবেন এই করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুর” করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ কম বেশি কোন না কোনভাবে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বাড়ির মালিকেরা, যারা বাড়ি ভাড়া দেন তারা এই করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রকোপ থেকে একেবারেই মুক্ত। বাড়ির মালিকদের অর্থনৈতিকভাবে কোনও ক্ষতি নেই। তারা ঠিকই মাস গেলে ভাড়া পাবেন। এই দুর্যোগের সময় তারা যদি একটু এগিয়ে আসেন তাহলে হয়তো আমাদের অর্থনীতিতে একটা বিরাট প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে অনেক বাড়ির মালিকেরাই এগিয়ে এসেছেন, কিন্তু এই মুহূর্তে প্রয়োজন সকল বাড়ির মালিকের মানবিক দৃষ্টি প্রদান।

এমনটি যদি করা সম্ভব হয়, দুর্যোগকালীন কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বাড়ির মালিকেরা তাদের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অর্ধেক নেবেন। তাহলে বিপুল পরিমাণ একটি অর্থ স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করবে। যারা ডেইলি বেসিসে কাজ করেন বা কর্মস্থলে না গেলে বেতন পান না তাদের জন্য এই সময়টা খুবই কষ্টের যাচ্ছে। তারা হয়তো এই সুবিধাটুকু পেলে তাদের বিরাট উপকার হবে।

ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কিংবা অঞ্চলে যাদের একটি বাড়ি আছে, তাদের অন্তত গরীব বলা যায় না। সুতরাং তারা যদি কয়েক মাসের বাড়িভাড়া অর্ধেক রাখে তবে তাদের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। অপরদিকে একজন ভাড়াটিয়ার যদি বাড়িভাড়া অর্ধেক বেচে যায় তাহলে বিশেষ করে এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তের সময়টা তার কিছুটা হলেও উপকার হবে। ওই টাকা দিয়ে সে তার প্রয়োজন মেটাতে পারবে। কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে। এতে করে আমাদের অর্থনীতি খুব দ্রুত সচল হতে পারবে। অপরদিকে এটা করা গেলে বাড়িওয়ালাদের যে খুব বেশি ক্ষতি হবে তা কিন্তু নয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেগুলোর প্রত্যেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা দেখছি। সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। দুর্যোগকালীন বাজেট প্রণয়ন, গুঁজব প্রতিরোধ, খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচি আমরা দেখতে পাচ্ছি। কয়েকটি পত্রপত্রিকায় আমরা দেখেছি ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কিংবা অঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িওয়ালা এই দুর্যোগকালীন সময়ে বাড়িভাড়া মওকুফ করেছেন এবং ভাড়াটিয়াদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। অবশ্যই সেইসব বাড়িওয়ালারা ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার। তারা মহৎ হৃদয়ের মানুষও বটে। এই মহৎ উদ্যোগটি যদি ঢাকাসহ সারাদেশে বাস্তবায়িত করা যায়, অথবা শুধু বিভাগীয় বা জেলা শহরগুলোতে করা যায় তাহলে সারাদেশের মানুষ উপকৃত হবেন। আর এজন্য দরকার শুধু একটি উদ্যোগের। একটি ঘোষণার।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

এ বিভাগের আরও সংবাদ