ঢাকা রাত ১০:২০, শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে করোনা

 

যতদিন যাচ্ছে রাজধানীর করোনার পরিস্থিতি ততই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। ঢাকার সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।

সোমবার (১৮ মে) পর্যন্ত রাজধানীর ১৮৬টি স্থানে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে পাঁচটি এলাকায় দুই শতাধিক রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৪৯ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০২ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৭০ জনে। যার মধ্যে ৫৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ রোগীই রাজধানীর।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মে পর্যন্ত রাজধানীর মোট ১৮৬টি এলাকায় করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ওই ৩১টি এলাকায় সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২৯৮ জন রোগীও রয়েছে।

রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় দুই শতাধিক করোনা রোগীর শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে কাকরাইলে সর্বোচ্চ ২৯৮ জন রোগী রয়েছেন। এর পাশাপাশি যাত্রাবাড়ীতে ২৪২ জন, মহাখালীতে ২৩৫ জন, মোহাম্মদপুরে ২১৩ জন ও রাজারবাগে ২০৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আরও আটটি এলাকায় শতাধিক রোগী পাওয়া গেছে। যার মধ্যে মুগদায় ১৯৮ জন, তেজগাঁওয়ে ১৫০ জন, মগবাজারে ১২৫ জন, লালবাগে ১২২ জন, বাবুবাজারে ১১৭ জন, মালিবাগে ১১৪ জন, উত্তরায় ১১১ জন ও ধানমন্ডিতে ১০৬ জন করে রোগী রয়েছেন।

অর্ধশতাধিক করে রোগী রয়েছে ১৮টি এলাকায়। যার মধ্যে আগারগাঁওয়ে ৭৮ জন, বাড্ডায় ৯৭ জন, বনানীতে ৫৮ জন, বংশালে ৮৪ জন, বাসাবোয় ৬৫ জন, চকবাজারে ৭০ জন, গেন্ডারিয়ায় ৭৭ জন, গুলশানে ৬৮ জন, হাজারীবাগে ৬৫ জন, খিলগাঁওয়ে ৮৬ জন, মিরপুরে ৮৩ জন, মিরপুর-১ এ ৫৮ জন, রামপুরায় ৬০ জন, রমনায় ৫০ জন, শাহবাগে ৭৩ জন, শ্যামলীতে ৭০ জন, স্বামীবাগে ৫০ জন ও ওয়ারিতে ৭১ জন রোগী রয়েছেন।

রাজধানীতে করোনা রোগীর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা ভাইরাস দেশের বাইরে থেকে আসা মানুষের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাই ঢাকাতে এ ভাইরাসের প্রকোপ বেশি থাকাটা স্বাভাবিক। বিদেশ থেকে আসা অনেকেই রাজধানীতে বসবাস করেন। ঢাকার বাইরেও যেসব প্রবাসী থাকেন, তাদের অনেকেই বিমানবন্দরে নেমে প্রথমে কিছুদিন ঢাকাতে ছিলেন। তাদের সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর মনে করেন, ঘনবসতির কারণে রাজধানীতে করোনা রোগী বেশি।

তিনি বলেন, ঢাকার মতো জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খুব সহজেই মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সেসঙ্গে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সুবিধা দেশের অন্য অন্য জায়গার তুলনায় ঢাকায় বেশি, সেটিও একটি কারণ। এছাড়াও ঢাকার হাসপাতালগুলোর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

বিজনেস বাংলাদেশ / শেখ

এ বিভাগের আরও সংবাদ