ঢাকা রাত ৮:১১, শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হোম অফিসের প্রভাব শরীরে

প্রতিদিন অফিসে কাজ কিংবা দায়িত্ব পালন করতেন। করোনার ফেরে এখন বাসায় বসে অফিসের কাজ সারছেন। পোশাকি নাম হোম অফিস। লোকজন, যানবাহনের ভিড় আর ধুলাবালির ভেতর দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে না। বেশ আরামের বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক থাকছে কি না খেয়াল রাখছেন তো?

অফিসে কাজ করতেন নির্দিষ্ট চেয়ার-টেবিলে বসে৷ মাঝে মাঝে উঠতেন৷ এদিক সেদিক যেতেন৷ অফিসের আগে-পরে এখানে সেখানে যাতায়াত, সিঁড়ি ভাঙতেন৷ ফলে ঘাড়-কোমরসহ সারা শরীর সচল থাকত৷ এখন লকডাউনে ঘরে বসে অফিস করতে গিয়ে ব্যত্য্য ঘটছে এসবের। যত বেশি আরাম করে কাজ করছেন তত চাপ পড়ছে শরীরের প্রতিটি পেশি, সন্ধি, এমনকি চোখেও।

হোম অফিসের কারণে ৮ ঘণ্টা কাজের সময় বাড়তে বাড়তে ঘণ্টা ১০-১২ হয়ে গেছে অনেকের৷ বন্ধ হয়েছে এ টেবিল সে টেবিলের আড্ডা এবং সেই সুবাদে অঢেল রিল্যাক্সেশন৷ যেখানে নির্দিষ্ট দূরত্বে কম্পিউটার রেখে সঠিক চেয়ারে সোজা হয়ে বসে, ঘাড় সোজা রেখে কাজ করার কথা, সেখানে এখন এমনভাবে কাজ করছেন যে শরীরের প্রতিটি পেশী, সন্ধি ভুলভাবে থেকে যাচ্ছে বেশ খানিকটা সময়৷ আবার যখন অন্যভাবে বসলেন বা শুলেন, তখনো সেই এক ব্যাপার৷ শরীরের কোনো পেশি বা সন্ধিই যেভাবে তার থাকার কথা, সেসভাবে থাকতে পারছে না৷

তাতে কী হচ্ছে বা হতে পারে? বিশেষজ্ঞ্ররা বলছেন, ঘাড়ে-কোমরে ব্যথা, কখনো আবার ব্যথা সারা শরীরে, গা ম্যাজম্যাজ, মাথা টিপটিপ, বিরক্তি ইত্যাদির সৃষ্টি। যতই এভাবে কাজ করবেন তত বাড়বে ব্যথা৷ যখন লকডাউন খুলবে বা অফিসে যাওয়া শুরু করবেন তত দিনে ব্যথার ধাতই হয়তো হয়ে যাবে৷ তখন তাকে সারানো এক বিরাট ঝকমারি ব্যাপার হবে৷

দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকার কারণে রোদ গায়ে লাগছেই না। কাজেই শরীরে ভিটামিন ডি-র টান পড়বে। তাতেও ব্যথা বাড়তে পারে৷

তাহলে হোম অফিসে করনীয় কী

চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করতে চেষ্টা করুন৷ মাঝেমধ্যে এক-আধবার বিছানা বা সোফায় বসে কাজ করলেও খেয়াল রাখুন ঘাড় ও কোমর যেন সোজা থাকে৷ চেয়ার-টেবিলের উচ্চতা এমন রাখুন যাতে ঘাড় সোজা রেখে কাজ করতে পারেন৷

কাজের মাঝে ফোন এলে কাঁধ আর ঘাড়ের মাঝে ফোন ধরে কাজ চালিয়ে যাবেন না৷ হয় স্পিকার চালু করুন, না হলে ইয়ার ফোনে কথা বলুন, নয়তো কাজ বন্ধ রাখুন সেই সময়টুকু। সাধারণ চেয়ারে বসে কাজ করলে কোমরের কাছে কুশনের সাপোর্ট দিন৷

কম্পিউটারে ঘণ্টা খানেক কাজ করার পর মিনিট দশেক চোখের কাজ বন্ধ রাখুন৷ ফাঁকা পেয়েছেন বলে একটু টিভি দেখে নিলেন বা মোবাইল চেক করলেন, তা কিন্তু হবে না৷ একটু চলাফেরা কি স্ট্রেচিং করলে বা চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলে চোখ, ঘাড়, কোমর সবই বিশ্রাম পাবে৷

৮-১০ ঘণ্টা কাজের মাঝে কম করে দুবার খোলা হাওয়ায় ১০-১৫ মিনিট ঘুরে আসুন৷ বাইরে যাওয়া তো এখন সম্ভব নয়, তাই বারান্দায় কিংবা ছাদে একটু পায়চারি করে নিন৷

দিনে অন্তত একনবার কয়েকটি ব্যায়াম করুন৷ দিনে একবার কি দুবার ১৫-২০ মিনিট একটু জোরে হাঁটুন৷

•রোটেশনাল নেক এক্সারসাইজ করুন৷ ব্যাপারটা আর কিছুই না, প্রথমে সোজা দাঁড়িয়ে বা বসে ঘাড় পিছনে নিয়ে ছাদের দিকে তাকান৷ এ বার ঘাড় ঝুঁকিয়ে তাকান মেঝের দিকে। এর পর পর্যায়ক্রমে ডান দিকে ও বাঁ দিকে তাকাবেন৷ এই ব্যায়াম ঘাড়কে সচল রাখে৷

কাজের মাঝে উঠে একটু আড়মোড়া ভাঙার মতো করবেন৷

বাড়ির খাবার যেমন খাচ্ছেন খান, সঙ্গে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার একটু খেতে হবে৷ কাজেই ডিম, দুধ, দই খাওয়ার চেষ্টা করুন নিয়মিত৷ পানি খাবেন পর্যাপ্ত৷ চা-কফি, কোল্ডড্রিঙ্কে-মদ, সিগারেটে আপাতত দূরে রাখুন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ