ঢাকা রাত ১১:৪৭, শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা; জনগণ, মিডিয়া ও সরকার

ভয়াবহরকম দুর্যোগের আতঙ্কে কাঁপছে সারা বিশ্ব।উন্নত দেশ আর উন্নত প্রযুক্তি কিছুই যেনো থামাতে পারছে না মানুষের অসহায়ত্ব। প্রকৃতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ঝাড়ছে পৃথিবীর উপর। ধনী কি গরীব সবাইকে অসহায় করে দিচ্ছে দিনকে দিন। এই মহামারির ভয়াবহতায় বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। সামান্য সচেতনতার অভাবে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস আজ ছড়িয়ে পড়েছে। জেনে না জেনে, লোক মুখে শুনে বাঙালি আজ আতংকিত। অথচ, হওয়ার কথা ছিলো সচেতন। আমরা কি জাতি হিসেবে আদৌও সচেতন.?

চীন থেকে যখন এই ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন আমরা কি করেছি? সরকার’ই বা জনগণের সচেতনতার জন্য কি উদ্যোগ নিয়েছিলো.? মিডিয়াগুলো অপর দেশের নিউজ কভার করা নিয়ে যতো ব্যস্ত! তার শতভাগ এর এক ভাগও কি সচেতনতা প্রচার করেছিলো.? আমার চোখে তেমন পরে নাই। জানিনা কারো চোখে করোনা আক্রমণ এর আগে মিডিয়ার সচেতনতা চোখে পড়েছে কিনা।

এখন যখন আমরা আক্রান্ত, তখনও কি সঠিক ভাবে সচেতনতা ছড়াতে পারছি? মনে হয় না। সচেতন হলে “করোনা টরোনা কিচ্ছু না। এগ্লা আমাগো ঐবো না” এমন কথা বাজারের এক দোকানদারের কাছে এই সময় অন্তত শুনতে হতো না। আমাদের গুজবীয় জনগণের সচেতনতা আসলে কারা করবে? কার বা কাদের দ্বায়িত্ব? যখন একটি দেশের জনগণ বুঝে হোক আর না বুঝে আক্রান্ত হোক, ভালো মন্দের দায়ভার কিন্তু দায়িত্বশীল সরকারের উপর’ই পরে। যদিও নিজ সচেতনতা নিজকেই করতে হয়। কিন্তু আমরা যে আবেগী, অন্ধ বাঙালি। চিপায় না পরলে আমরা বুঝতে বা শিখতে চাইনা।

গত দুইদিন ধরে হোম কোয়ারান্টাইনে আছি। বই, টিভি, মোবাইল নিয়েই সময় পার করছি। অবাক লাগে যখন দেখি বহু বহু কথিত শিক্ষিতজন গুজব নিয়ে ব্যস্ত! স্বাস্থ্য বিধি মানা দূরের কথা। উল্টো ভঙ্গ করছে। অযথা না বুঝে কথা বলতে দেখেছি অনেক মন্ত্রীদের, এক সরকার দলীয় প্রার্থীতো করোনা দিয়ে শ্লোগান’ই বানিয়ে ফেললো! যেখানে জনসমাগমে আপত্তি! সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা কতটুকু যৌক্তিক? গার্মেন্টস সহ অন্যান্য জনসমাগম জাতীয় কর্মস্থল খোলা রাখা কতোটা যৌক্তিক? টিভি খুললেই অপর দেশের নিউজ আর আইইডিসিআর এর সংবাদ সম্মেলন ছাড়া করোনা সচেতনতা নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণা নাই। কয়েকটা টেলিভিশন প্রচার করলেও তা খুবই কম। ওনারা আছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য করাদের মতো। খবরের ফাকে ফাকে বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা আর রাতে সুন্দরী বেসুরো শিল্পী দিয়ে লাইভ গান আয়োজন। ব্যাস্ হয়ে গেলো মিডিয়ার দায়িত্ব!! মিডিয়া কি পারতো না প্রতি দশ/বিশ মিনিট পর পর সচেতনতা মূলক কিছু প্রচার করতে? মিডিয়া ডাকলে কি দেশের জনপ্রিয় মানুষজন যেতো না? তাদের দিয়ে সচেতনতা বাড়ালে কি মিডিয়ার বাণিজ্য খুব হুমকির মুখে পরতো?

এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলও দেখি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছে! চাঁদ দিনে উঠে এমন কথা বলেও জোর করে জিততে চায়! আসলে তাদের রাজনীতি কাদের জন্য? করোনা কি রাজনীতিবিদ আর সাধারণ জনগণ বুঝে.? প্রকৃতির অভিশাপ কিন্তু অতোশতো বুঝে না। সে বুঝে প্রতিশোধ। ভয়ংকর প্রতিশোধ।

এখনও সময় আছে। মিডিয়াকে বলবো বেশি বেশি অতি বেশি সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করুন। প্রয়োজনে জনপ্রিয় ব্যাক্তি দিয়ে এক মিনিট করে সচেতনতা ক্লিপ প্রচার করুন। দেশের সকল মানুষের কাছে বার্তাটি গুরুত্বসহ পৌঁছাতে হবে। সরকারকে অনুরোধ করবো। জনগণকে আইন মানতে বাধ্য করুন। সে যেই হোক আইন প্রয়োগটা নিশ্চিত করুন। আমি শতভাগ শিওর বাঙালি কেবল আইন মানলে/মানতে বাধ্য করলে, বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ। এই গুজবীয় অসভ্য জাতিতে চিপায় ফেলে সোজা করুন। এই সময়ে সোজা হলে করোনা থেকেও রেহাই পাবে। তারচেয়ে বেশি উপকৃত হবে দীর্ঘ বদঅভ্যেসে অগোছালো জনগণ পরিষ্কার হওয়ার অভ্যাস হবে।

সচেতনতা একেবারে নিজের কাছে। অপরকে সচেতন করতে যেয়ে প্যাচ লাগানোর দরকার নাই। কেবল নিজে সচেতন থাকুন। বিশ্ব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। মনে রাখবেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা’ই হলো সকল রোগের মহৌষধ।

 

লেখকঃ মুরাদ নূর

সুরকার ও সংস্কৃতিকর্মী, মিডিয়াকর্মী
muradnoorbdicon@gmail.com

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান

এ বিভাগের আরও সংবাদ