ঢাকা সকাল ১১:৪৭, রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ২৯শে ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রশ্ন উঠেছে বাজেট ও সক্ষমতা মেনে কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব

ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ততই বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন, নারীর নিরাপত্তা, মশা দমন, সুপেয় পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানসহ নানা বিষয়ে ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তারা।

তবে সিটি করপোরেশনের বাজেট ও তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী তারা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনসাধারণের মধ্যে।

নগরবিদরা বলছেন, নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শুধু শুধু উন্নয়নের ফুলঝুরি শোনানো হচ্ছে। সেবা সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া তাদের বড়ো কোনো কাজই বাস্তবায়ন করা সম্ভব না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিটি করপোরেশন আইন-২০১৯ এ জন্মনিবন্ধন হতে শুরু করে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জায়গার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে এতে।

এছাড়া জনস্বাস্থ্য, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, সড়ক, বাজার প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা, আবর্জনা অপসারণসহ ২৮টি নাগরিক সেবা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে আইনে। এই আইনে আরো বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় সরকারি সেবা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

তারা সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করবেন। কিন্তু বেশির ভাগ সাধারণ সভায় এসব সেবা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি পাঠান। এছাড়া সিটি করপোরেশনের যে বাজেট রয়েছে সে বাজেট অনুযায়ী সব নাগরিকসেবা বাস্তবায়নেও হিমশিম খেতে হয় তাদের।

বিশেষ করে যানজট নিরসনের মতো একটি জটিল ব্যাপারে সিটি করপোরেশনে আলাদা কোনো বাজেট নেই। এছাড়া সব ওয়ার্ডে খেলার মাঠ ও পার্ক করার মতো ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরকারি জায়গাও নেই। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে পার্ক ও মাঠ করার মতো পর্যাপ্ত বাজেটও নেই সিটি করেপারেশনের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড রয়েছে মোট ৭৫টি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপেরেশনের বাজেট ছিল ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড রয়েছে ৫৪টি। এ সিটিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

দুই সিটির বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেতন ও অন্যান্য ব্যয়েই বেশির ভাগ অর্থ খরচ হয়। রাজস্ব ব্যয় মিটিয়ে ও সব খরচ বাদ দিয়ে দুই সিটির উন্নয়নের জন্য দক্ষিণে ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর উত্তরে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

দুই সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুযায়ী যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা তা সব পূরণ করা সম্ভব কি না, এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ বলেন, প্রার্থীরা নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা বেশির ভাগই বাস্তবসম্মত নয়। সিটি করপোরেশনের যে বাজেট রয়েছে তা ঢাকার জনসংখ্যা অনুযায়ী অপর্যাপ্ত। এই সীমিত টাকা দিয়ে তাদের সব সেবা নিশ্চিত করাও সম্ভব না।

তবে তারা এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা করে সীমিত বাজেটেই চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নিতে পারেন। এছাড়া সেবা সংস্থাগুলো তাদের সহযোগিতা করলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সেবা সংস্থাগুলোরও সহযোগিতা পায় না সিটি করপোরেশন।

মেয়রদের জন্য যেসব বিষয় বাস্তবায়ন সহজ ও যা তারা করতে পারবেন প্রার্থীরা বেশির ভাগই সেসব নিয়ে কথা বলছেন না। যানজট নিরসনের কথা বলছেন তারা, কিন্তু এটি অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এটি আলাদাভাবে সিটি করপোরেশনের দ্বারা সম্ভব না।

আরেক নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বের হোসেন জানান, মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ের জন্য ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কিন্তু তারা এর খুব কমই তাদের ক্ষমতাবলে পূরণ করতে পারবেন। জনগণের প্রয়োজনে কিছু করতে গেলে তাদের সেবা সংস্থাগুলোর শরণাপন্ন হতে হয়।

অন্যদিকে আরেক স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, কয়েকটি সংসদীয় আসন নিয়ে একজন মেয়র জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তিনি চাইলে বহু কিছুই করতে পারেন। তবে তার সে সদিচ্ছা থাকতে হবে। সেবা সংস্থাগুলো কেন তাকে সহযোগিতা করবে না ? তাকে সেটি আদায় করে নিতে হবে।

বাজেট যাই থাকুক, হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে তো তাদের আয় আছে। আসলে কেউ কাজ না করলে বহু অজুহাত দিতে পারে।

সিটি করপোরেশনের বাজেট ও মেয়রদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করেপারেশনের ডিএনসিসির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আসলে যানজট নিরসন ও আরো বহু সমস্যা নিরসনে সিটি করেপারেশনের আলাদা কোনো বাজেট নেই। আর যানজট নিরসন তো একটি চ্যালিঞ্জিং বিষয়।

তবে কীভাবে তা নিরসন করা যায়— সে বিষয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বসে আমরা সেটি নিরসন করার চেষ্টা করব। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমরা এলইডি লাইট স্থাপন করেছি। বিভিন্ন এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করব। নাগরিক সেবা নিশ্চিতে আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

এ বিভাগের আরও সংবাদ
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3354715