ঢাকা দুপুর ২:৩০, বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২০ ইং, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের একগুচ্ছ নির্দেশনা

২ মাসের মধ্যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

ঢাকার আশপাশে অবৈধ ইটভাটা যেগুলো বন্ধ করা হয়নি সেগুলো ২ মাসের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের উপর শুনানির পর এসব আদেশ দেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে বায়ু দূষণের কারণ ও দূষণরোধে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মনজিল মোরসেদ, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন সাইদ আহমেদ রাজা।

ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মাহমুদ বাশার বলেন, নির্মল বায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্ব ব্যাংক একটি প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকা দেয়। সেই অর্থ পরিবেশ অধিদপ্তর কিভাবে ব্যয় করেছে, পরিবেশ উন্নয়নে তা কি ধরনের ভূমিকা রেখেছে, এতে জনগণ কি ধরনের সুফল পাচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিতে তলব করেছেন আদালত।

রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এ বিষয়ে সংগঠনটি আগে রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে আদালত রুলসহ আদেশ দেন। এরপর সম্পূরক আবেদনটি করা হয়।

এছাড়া এইচআরপিবি করা রিটে এক সম্পূরক আবেদনের পর হাইকোর্টে বেঞ্চ বেশকিছু নির্দেশনা দেন।

হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনাগুলো হচ্ছে:

১. পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া যারা বিভিন্ন ধরনের টায়ার পোড়ানো ও ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

২. ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজিপুর ও মানিকগঞ্জে যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনো বন্ধ করা হয়নি সেগুলা বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

৩. যেসব পরিবহন নির্ধারিত মাত্রার বেশি কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে সেগুলো জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এবং যেসব পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফের মাত্রা ছাড়িয়েছে সেসব পরিবহন নিষিদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

৪. রাজধানীর রাস্তায় যেসব বালি, ময়লা, বর্জ্য পরিবহন করবে সেগুলোর উপরিভাগ ঢেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এবং নির্মাণ এলাকায় বালু, সিমেন্ট মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

৫. সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় পানি ছিটানো হয়নি সেসব এলাকাসহ ধুলাবালি প্রবণ এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে বলা হয়েছে।

৬. দোকান বা মার্কেটের ময়লা-আবর্জনা বিন, বেগ বা ছালায় জমা করে দোকান বা মার্কেট বন্ধ করার সময় নির্ধারিত জায়গায় ফেলার বিষয়টি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

এ বিভাগের আরও সংবাদ
//graizoah.com/afu.php?zoneid=3354715