আজ রবিবার | ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ইং
| ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | সময় : সকাল ১০:৫৬

মেনু

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষিত বেসরকারি হাসপাতালে
ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষিত বেসরকারি হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ৩১ জুলাই ২০১৯
৭:২২ অপরাহ্ণ
28 বার

ঢাকা: রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারি নির্দেশ মানছে না। ডেঙ্গু টেস্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফি থেকে বেশি নিচ্ছে তারা। আর তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে তুলতে অতিরিক্ত ফি দিয়েই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছেন অভিভাবকরা।

আবার বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় গলাকাটা বিল করার অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকার হাসপাতালগুলোর এ স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। ভুক্তভোগী অনেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ দিয়েছেন। আর সেসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সংস্থাটি।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সরকার নির্ধারিত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় ধানমণ্ডির ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা ও ইবনে সিনা হাসপাতালকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ছাড়া, গ্রিন লাইফ মেডিকেল হাসপাতালসহ ধানমণ্ডির চারটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ফি বেশি নিচ্ছে বলে এই চারটি হাসপাতালকে তলব করা হয়েছে।

সংস্থাটির উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মাদ শাহরিয়ার বলেন, ভোক্তাদের পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি শেষে এই জরিমানা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল ও বিএসএমএমইউতে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৯ জুলাই) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাদের ফেসবুক পেজ থেকে ভোক্তাদের কাছ থেকে ডেঙ্গু রোগের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হলে অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ করে। ই-মেইল ও মুঠোফোনের মাধ্যমে একদিনে ১৭টি অভিযোগ জমা হয়। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এর আগে রোববার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দেয় ৫০০ টাকা। এদিন ‘ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা’ সংক্রান্ত জরুরি সভায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা এনএসওয়ান এর জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, সিবিসির জন্য ৪০০ টাকা এবং আইজিজি ও আইজিজিএম পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরের দিন ২৮ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অথচ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নতুন নির্ধারিত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ এনএসওয়ান ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও ওই হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। আইজিজি ও আইজিজিএমের ফি ৫০০ টাকা এবং সিবিসি ফি ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এক হাজারের বেশি টাকা ফি নেওয়া হচ্ছে প্রতিটি টেস্টে।

ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোডের উইমেন’স চিলড্রেন অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালে দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত তারা মানছেন না। ডেঙ্গু আক্রান্তদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ নিচ্ছেন। ৫০০ টাকার পরিবের্তে নেওয়া হচ্ছে ১২০০ টাকা।

ভুক্তভোগী এক অভিভাবক জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার টেস্ট ফি যেখানে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার, সেখানে তারা ১২০০ টাকা চার্জ নিচ্ছে। পরে অভিযোগ করলে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আসলে অনেক অভিভাবক ডেঙ্গু নিয়ে ভীত থাকায় অতিরিক্ত চার্জেই রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন।

একই পরিস্থিতি দেখা যায় বনশ্রীর অ্যাডভ্যান্স হাসপাতালে। এ হাসপাতালে সিবিসি ও এনএসওয়ান পরীক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে সাড়ে ১৫শ’ টাকা। অথচ সরকার এ দুই পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৯০০ টাকা। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ফরিদ নেওয়াজ খান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন তারা এখনও পাননি।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব নির্দেশনা মেনেই পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘৩০ শয্যার এই হাসপাতালে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে রোগীদের নিয়ে হিমশিম খাওয়ায় অধিদপ্তরের কাছে এখনও প্রতিবেদন দিতে পারেননি বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন একজন ডেঙ্গু রোগীর বিলের কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ডেঙ্গু রোগীর পাঁচদিনের চিকিৎসায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল করেছে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল।

সেই বিল কপিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের পর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিতে থাকেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। ভাইরাল হওয়া ওই বিলে রোগীর নাম ঠিকানা কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, অজ্ঞাত ওই রোগী গত ২২ জুলাই ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। পাঁচ দিনের চিকিৎসা শেষে ২৭ জুলাই তিনি ছাড় পান।

অপরদিকে রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে দুই দিনে এক ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা বিল ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা! তবু সেই রোগীকে বাঁচাতে পারেনি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সেই ঘটনায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। সবাই গ্রীন লাইফ হাসপাতালের সমালোচনায় মুখর।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

রবিবারেই থেমে যাবে বৃষ্টি
২১ অক্টোবর ২০১৭ 472450 বার

সুষমা স্বরাজ ঢাকায়
২২ অক্টোবর ২০১৭ 470701 বার

কাঁদলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ
০৪ অক্টোবর ২০১৭ 405165 বার