ঢাকা দুপুর ১:১০, মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৪ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেষ হলো পদ্মা সেতুর পাইল বসানোর কাজ

অবশেষে শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর পাইল বাসানোর কাজ। রবিবার রাত ৮টায় পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ২৯৪টি পাইল বসানো হলো। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পাইল বসানোর কাজটি শুরু হয়েছিল। পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাইল বসানোর কাজটি শুরু হয়ে রাত ৮টায় কাজ শেষ হয়। মূল সেতুর ২৬ নম্বর খুঁটির ৭ নম্বর পাইলের টপ সেকশনের পাইল স্থাপন রোববার সাড়ে ১১টায় শুরু হয়। এর আগে গত শনিবার সেতুর সর্বশেষ পাইলটি বসানোর কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এদিকে সেতুর পাইল বসানোর কাজ শেষ হওয়ায় প্রকল্প এলাকায় সংশ্লিষ্টদের মাঝে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। ৩ মিটার পরিধির একেকটি পাইল নদীর ১২০ মিটার পর্যন্ত তলদেশে গিয়েছে। এক লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার পানি প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত হয়ে থাকে পদ্মা নদী দিয়ে। খরস্রোতা নদীতে যাতে পাইলের ওপর পিলার একশত বছরের বেশি সময় টিকে থাকে-এমনভাবে নদীতে পাইল ড্রাইভ করা হয়েছে। চীন থেকে আসা স্টিল পেট দিয়ে পাইল তৈরি করা হয়েছে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে। গত বছরের শেষ দিকে নকশা পুনর্বিন্যাস করার পর দ্রুতগতিতে পদ্মার বুকে বসতে থাকে একের পর এক পাইল।

জানা গেছে, মূল সেতুর নির্মাতা চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে পাইল বসানোর কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন আগে পাইল বসানোর কাজ শেষ হলো। নির্মাণ কাজের শুরুতে ২৬৪টি পাইলের ওপর ৪২টি পিলার তৈরির নকশা করা হয়। কিন্তু নদীর গভীর তলদেশে কাদামাটির স্তর ও গঠনগত বৈচিত্র থাকায় নতুন নকশা করতে হয়। এ নকশায় ১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ১৬টি করে মোট ৩২টি পাইল করা হয়। আর ২২টি পিলারে সাতটি করে মোট পাইল ১৫৪টি এবং ১৮টি পিলারে ছয়টি করে মোট ১০৮টি পাইল রাখা হয়।

সব মিলিয়ে ৪২টি পিলারে পাইল রাখা হয় ২৯৪টি। এদিকে ২৯৪টি পাইলের পাশাপাশি এর মধ্যেই ৩০টি পিলার তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেতুর মোট ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হবে ৪১টি স্প্যান। এর মধ্যে কয়েক ভাগে ১৪টি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে বর্তমানে পদ্মা সেতুর ২ হাজার ১০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। আর নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

এ বিভাগের আরও সংবাদ