আজ বুধবার | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ১১:৩০

মেনু

লালফিতায় বন্দি মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা

লালফিতায় বন্দি মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা

অভিজিৎ সরকার
শুক্রবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৭
১০:০৬ অপরাহ্ণ
566 বার

এটা বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। অপ্রতিরোধ্য বাঙালি জাতির বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস কড়া নাড়ছে দরজায়। মনের ভেতর অনুরিত করছে শাসন, শোষণ, পরাধীনতার গ্লানি ভেদ করে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গায় করে নেয়া একটি নাম প্রিয় “বাংলাদেশ”। এই মাসেই ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল মহান বিজয়। বিশ্ববাসী সেদিন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছিল বাঙালি জাতির অসীম সাহসিকতা। কোন পর্যায়ে দেশ প্রেম থাকলে মা -বাবা, পরিবার পরিজন ছেড়ে ঘাতকের ট্যাংকের সামনে বুক উচিঁয়ে লড়াই করা যায়। কতটুকু দেশপ্রেম থাকলে যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় টুকু বিসর্জন দিয়ে অবশ্যম্ভবী মৃত্যু পথ বেছে নেয়া যায়। এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের চিন্তার জগতে কয়েক মাত্রার ভূমিকম্প হলে ও ঠিক মর্মার্থ বুঝে উঠতে পারি না। তাই মাঝে মাঝে বলতে ইচ্ছে করে “আবার তোরা মানুষ হ”।সেই মনুষ্যত্বহীনদের বিবেক বর্জিতদের আচরণ আজো ও দেখি মুক্তিযুদ্ধ/ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধীতায় নিমজ্জিত করতে, চপেটাঘাত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের, খামচে ধরতে জাতির পতাকা।কতটা সাংঘাতিক কতটা ভয়াবহ হতে পারে………. দানবদের পৈশাচিকতা।

দেশমাতৃকা রক্ষার তীব্রটানে যুদ্ধে গিয়েছিল বলেই অনেক কে মৃত্যুর কঠিন পথ আলিঙ্গন করতে হয়েছে, বেছে নিতে হয়েছে চিরকালে পুঙ্গুত্বের অভিশাপ। হারাতে হয়েছে তিল তিল করে গড়ে তুলা সুখের স্বর্গ।চোখের সামনে হারাতে দেখেছে প্রিয়জনের সম্ভ্রম।সেদিন শুধু মাত্র একটি কারণেই নেমে এসেছিল সন্তান, স্বামী, পরিবারের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার, কারো ঘড় পুড়েছে কাউকে জীবিত পুড়িয়ে মেরেছে পাকিস্তানী হানাদার ও দেশীয় আলবদরা।মুখ থুবড়ে পড়েছিল মানবতা অথচ দেখার মত কেউ ছিল না।

হাজারো পরিবার এতিম হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়েছে, আপনজনের প্রিয় মুখটি যুদ্ধে যাবার কারণে সাদাকালো ফ্রেমে বন্ধী হয়েছে, অনন্ত যৌবনা নব বিবাহিত বধুর হাতের লালটুকে মেহেদীর রঙ মুছেতে না মুছতেই জড়িয়ে নিতে হয়েছে সাদা শাড়ী।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র কি ফিরিয়ে দিতে পেরেছে পিতৃহারা শিশুর কাছে তার পিতাকে নাকি পেরেছিল ফিরিয়ে দিতে নব বিবাহিত বধুর কাছে তার স্বামী কে? তাহলে দেশ স্বাধীন হওয়ার রাষ্ট্র কি করেছে?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একের পর নোংরা খেলায় মেতে উঠেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে হত্যা করা হয়েছিল বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে।জেলখানায় সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছিল জাতির সূর্য সন্তান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এইচ এম কামরুজ্জামানদের মত জাতীয় চার নেতাকে। সেদিন রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা সরকার তুলে দিয়েছিল রাজাকারদের গাড়ীতে শহীদের রক্তেভেজা লাল সবুজের পতাকা, তাদের বানানো হয়েছিল মন্ত্রি, এমপি সহ দেশের নীতি নির্ধারক। তাদের নামে বেনামে বরাদ্ধ রেখিছিল বিলাস বহুল ফ্ল্যাট। কেড়ে নেয়া হয়েছিল শহীদ পরিবারের সম্পত্তি,এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল শহীদ পরিবারের সদস্যদের।সে দিন রাজাকাদের সীমাহীন দুর্নীতি লুটপাটের কারণে দেশ হয়েছিল চ্যাম্পিয়ান।

স্বজনপ্রীতি আর মামা চাচাদের দাঁপটে সেদিন ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল মেধার সার্টিফিকেট। সরকারী চাকরীতে নিয়োগের তালিকা পাঠানো হয়েছিল বিশেষ ভবন থেকে।হাজার হাজার মানুষকে বেকার রেখে মুখের উপর বলা হয়েছিল আর কর্মকর্তার প্রয়োজন নেই। তখনতো পত্রিকা গুলোতে লেখা হয়নি মেধা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেশ চলে যাচ্ছে অযোগ্যদের হাতে। গভীর প্রশ্ন জাগে তখন সুশীলরা কোথায় ছিল?কি ছিল তাদের ভূমিকা?

আজ যখন জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে হাজার হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন সব হারিয়ে নিস্ব যারা,যারা কালের স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের ফলে সীমাহীন অভাব গ্রস্থ অবস্থায় রেখে যাচ্ছে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের জন্য তিঁনি শুধু মাত্র সরকারী চাকরিতে কয়েক পারসেন্ট বিশেষ কোটা সংরক্ষণ করেছেন। অথচ সেই দিন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া কারণে তাদের সন্তানরা ছিল সীমাহীন অভাব অনটন আর প্রতিকূল পরিবেশে। সেই দিন তাদের জন্য অভাব মেটানোই ছিল সবচেয়ে বড় দায়, পড়ালেখা ছিল অনেকটা দুঃস্বপ্নের মত।

অথচ দেশে চলমান নারী কোটা, উপজাতি কোটা, খেলোয়ার কোটা, পোষ্য কোটা নানা নামে বেনামে যখন কোটায় দেশ সয়লাভ তখন একটি মাত্র কোটায় আপত্তি। সেটি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। এদেশের গুটিয়েক সুশীল(জ্ঞান পাপী) ও আমলারা(যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের এজেন্ট) মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখার প্রয়োজন নেই, কারণ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকলে অযোগ্য, অদক্ষরা ডুকে পরবে প্রশাসনে আর দেশের মেধাবীরা নাকি হবে বঞ্চিত!

কষ্টবোধ হয় তখনি যখন মহান সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ করুনায় সংসদ সদস্য হয়ে তার সামনে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়।তিঁনি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় কিছু আমলা তাঁর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গিয়ে লাল ফিতার মারপ্যাঁচে ফাইল আটকে রাখে নানা অজুহাতে।

লক্ষ্য করুন বিসিএসের কোন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কার্যকর। হয়তো তা সবার জানার কথা থাকলে ও এ নিয়ে চলে নানা রকম তথ্য সন্ত্রাস। বিসিএস প্রিলিমিনারী ও লিখিত পরীক্ষায় কোন প্রকার কোটা কার্যকর হয় না। এখানে সবার সাথে অন্য সবার মত নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। পরবর্তীতে ভাইবাতে গিয়ে কোটা কার্যকর। তাই এখানে অযোগ্য, অদক্ষ,দুর্বলদের আসার কোন সুযোগ ই থাকে না। অথচ ভাইবা বোর্ডে আমলাদের নানা সীমাহীন কুটচালাকি আর লাল ফিতার কাছে বন্দিহয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সবার মত পাশ করে মেধাতালিকার নিদিষ্ট গন্ডির মধ্যে থাকতে পারলে তবেই কোটা কার্যকর হয়।এখানে অর্ধেকের চেয়ে ও বেশী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মূল মেধা তলিকায় স্হান করে নেয়। শুধু মাত্র কয়েকজন অপেক্ষমান তালিকা থেকে ভর্তি হয়ে থাকে। আর সাবজেক্ট নির্বাচনে শর্ত পূরণ না হলে কোটা পদ্ধতি অকার্যকর ই থেকে যায়। যেখানে প্রতি ৪৭ জনে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ হয়।

অথচ এই দেশেই ছাত্রদের সেমিস্টার পিছিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করা হচ্ছে এতে কোন আসে যায় না অথচ ২ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পড়াশোনা করলে জাতির বোঝা হয়ে যায়।

এদেশে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমলাদের খেয়ালী পনার কাছে বেকার। অথচ বলা হচ্ছে কোটায় লোক পাওয়া যাচ্ছে না। যারা শুধু মাত্র দেশ কে ভাল ভালোবেসে যুদ্ধে গিয়েছিল একটি সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার আশায় তারা প্রতিনিয়তই তলিয়ে যাচ্ছে কালের স্রোতে সীমাহীন অভাব নিয়ে। অথচ মুক্তিযোদ্ধের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রী।এটা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বর্তমান সময়ের বস্তবতা।

লেখক: আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

‘এটাই আমার শেষ খেলা না’-তামিম
১৮ অক্টোবর ২০১৭ 11118 বার

চিকন চালের দাম বৃদ্ধি
১২ অক্টোবর ২০১৭ 8104 বার