আজ শুক্রবার | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
| ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ৮:৫৯

মেনু

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত হবে

ছবি: বিজনেস বাংলাদেশ

গণহত্যা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
৬:২৭ পিএম
105 বার

রোহিঙ্গা সমস্যার আন্তর্জাতিক সমাধান না হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ‘অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত’ দেখা দিতে পারে। সার্কের স্বার্থেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাংলা একাডেমিতে গণহত্যা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা একথা বলেন।
একাত্তরের গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট শুক্রবার দুইদিনের এই সম্মেলন আয়োজন করে। এবারের সম্মেলনে আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৭১-এর গণহত্যা, বাংলাদেশের সুর্বণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।

অধ্যাপক ড.মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পী হাশেম খান, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভারতীয় সংবাদিক ও লেখক হিরন্ময় কর্মকার।

গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালেদ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি মাত্র উপজেলার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৭টি বধ্যভূমি রয়েছে। একটি বধ্যভূমিতে ১৬৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ ডিস্বেম্বর ময়মনসিংহ স্বাধীন হলো, আমি পাকিস্তানি নির্যাতন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পেলাম। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাঁটতে হাঁটতে ময়মনসিংহ আসি। তখন পথে পথে ডাকবাংলো, ব্রহ্মপুত্রচরে শত শত মৃতদেহ।

অনুষ্ঠানে জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার আন্তর্জাতিক সমাধান যদি না হয়, এ অঞ্চলে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শিগগিরই বিভিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত তৈরি হবে। যে জঙ্গি, মৌলবাদি কাজ শুরু হবে, সেটা থেকে ভারত, বাংলাদেশ বাদ পড়বে না। সার্কের স্বার্থেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিপীড়নের অভিযোগে এরইমধ্যে হেগের ‘দি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’ এ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়া।

সেই মামলার প্রসঙ্গ টেনে মুনতাসীর মামুন বলেন, আজকে আমরা যদি ঘাতক-খুনিদের বিচার করতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাই, তবে আমার বিশ্বাস, আমরা একাত্তরের ভূমিকার জন্য পাকিস্তানিদেরও বিচার করতে পারব। পাকিস্তানিদের বিচার করতে পারলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এই কাজের সাহস পেত না।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা যে ক্রমেই সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে, সে কথা সরকারের মন্ত্রীরাও বলছেন।

জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার ইতিহাস জাতিকে ‘ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া যদি ক্ষমতায় না আসতেন, যদি নিজামীরা ক্ষমতায় না আসতেন, তাহলে আমরা একাত্তরের শহীদদের কথা মনে রাখতে পারতাম। তারা (বিএনপি-জামায়াত) আমাদের এই ইতিহাসটি ভুলিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার তুলে ধরছি, যাতে নতুন প্রজন্ম মনে রাখে- এ রাষ্ট্র গড়ে ওঠার পেছনে কত অশ্রু, কত বেদনা, কত কান্না জড়িয়ে আছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তার মূল প্রবন্ধে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্য, মিয়ানমার,কম্বোডিয়া, ইতালি, ভারত ও বাংলাদেশের অর্ধ শতাধিক লেখক, গবেষক দুই দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

রবিবারেই থেমে যাবে বৃষ্টি
২১ অক্টোবর ২০১৭ 787714 বার

সুষমা স্বরাজ ঢাকায়
২২ অক্টোবর ২০১৭ 785677 বার

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে
২৩ অক্টোবর ২০১৭ 628097 বার

সবার আগে বাংলাদেশ: সুষমা
২৩ অক্টোবর ২০১৭ 488129 বার