আজ শনিবার | ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ৩:১০

মেনু

মৌসুমি তুমি এভাবেই সবার সাথে থাকবে সারাজীবন : চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা

মৌসুমি তুমি এভাবেই সবার সাথে থাকবে সারাজীবন : চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা

বাবুল হৃদয়:
শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
৯:২২ পিএম
173 বার

চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা বলেছেন, নতুন করে কিছুটা পরিচিতি পাবার আশায় এবার ভোটেও দাড়িয়েছি সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ভোটে দাড়াবার ইচ্ছে আমার ছিল না। আমি যখন জায়েদ খান ও মিশা সওদাগরকে বলেছিলাম এত গুনি শিল্পীরা আজীবন সদস্য হয়েছেন আমাকেও তোমরা তাই করে দাও। কারণ এই চলচ্চিত্র থেকে তো আমি কোনরকম সাহায্য পাইনি বা পাবোনা । তখন মিশা ও জায়েদ বলেছিলো সামনে নির্বাচন আর এইটা কি বলেন ? আপনি আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করবেন।

যাই হউক, পরে তারা প্যানেল জমা দেয় কিন্তু সেখানে আমার নাম ছিলনা , একদম শেষ দিন আমাকে একটি নমিনেশন পেপার কিনে দেয় চিত্র নায়িকা মৌসুমি। আর কি সতন্ত্র থেকে দাড়ালাম। সবাই দোয়া করবেন ৷ আমি পাশ করার কথা ভাবি না। হারজিত থাকবেই তবে ধন্যবাদ জানাই ও অনেক দোয়া করি নায়িকা মৌসুমিকে। তুমি এভাবেই সব সময় সবার সাথে থাকবে সারাজীবন ইনশাআল্লাহ ৷

তবে আমার অনুরোধ ভোট কেন্দ্রের রাইরে থাকবেন সম্মানিত পুলিশ ভাই ও বোনেরা ৷ নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব ফেয়ার ভাবে পালন করলে মনে হয় কিছু রদবদল হতে পারে ৷ ৩০ বছরের চলচ্চিত্রের বয়সে এবার প্রথম ভোটে অংশ নিচ্ছি কার্যকরি পরিষদ থেকে সবার দোয়া চাই ৷ সতন্ত্র কোন রাজনৈতিক দিকে না নিয়ে শিল্পী হিসেবে দেখবেন ৷ যদি ফেয়ার নির্বাচন হয়ে তবে পাশ করবো ইনশাআল্লাহ।

রঞ্জিতা বাবাকে হারিয়েন ২০০৪ সালে। রঞ্জিতা বলেন ছোট বোনের স্বামী বাসা থেকে ব্যাংক লোন নিয়ে সে টাকা শোধ করতে না পারায় বাড়ি নিলাম হবে শুনে ব্রেইন স্টোক করে দু বছর হলো দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন মা ৷ স্বামী ছেড়েছি অনেকদিন। এখন একমাত্র ছেলে ছাড়া সব হারিয়ে এখন আমি শূন্য। বিজনেস বাংলাদেশ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা বলেছেন আলোচিত সিনেমা ‘ঢাকা ৮৬’ খ্যাত চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা কনা।

রঞ্জিতা বলেন, এখন ছেলেকে লেখা পড়া করাতে পারছিনা ! জীবনে ভাবিনি ভাড়া বাসায় থাকতে হবে ! ছেলের পেটে গল্ড ব্লাডার স্টোন ধরা পরেছে। অপারেশন করতে পারছি না ৷ এরচেয়ে দুঃখের কথা কি বলবো ৷ অথচ আমাদের ঢাকায় বাড়ি ছিল। ব্যবসা ছিল।

আমার ছোট বোনের স্বামী আতিকুর রহমান দিপু বাসা থেকে ব্যাংক লোন নিয়ে সে টাকা শোধ করতে না পাড়ায় বারী নিলাম হয়। ব্যাংক লোনের টাকা শোধ করার জন্য অসুস্থ মাকে দিয়ে সই করিয়ে পাওয়ার ওফ এটর্নি নিয়ে বাসা বিক্রির সব টাকা, আসবাবপত্র. গহনা বিক্রি করে টাকা আত্নসাদ করে। এতিমের টাকায় সে এখন আওয়ামী লীগের নেতা হতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডোনেট করেন। এখন এতিমদের আর চেনেনই না।।

আমার বাবা ছিলেন ইন্টারনেসনাল পাসপোর্ট ও এয়ারপোর্ট এর ডিরেক্টর ৷ বড় ভাই স্মরনীয় জুয়েল এর নামে ট্রাভেল এজেন্সি ছিল , ছিলো ডেকোরেটর ব্যবসা , ফ্যাশন হাউজ , ছিলো গার্মেন্টস। এখন আর এসব কিছুই নেই।

আমার একমাত্র ও লেবেলে পড়ছে। ছেলে এবং নিজেও জীবন চালাতে ফের চলচ্চিত্রে ফিরেছি। টিভি পর্দাসহ সিনেমায় নিয়মিত কাজ করতে চাই। আগে টিভিতে উপস্থাপনা করেছি। আবার উপস্খাপনা নাটকে কাজ করতে চাই।

রঞ্জিতা চলচ্চিত্রে আসেন ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমার মাধ্যমে। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। রঞ্জিতা বলেন, নায়ক রাজের সঙ্গে নাম মিলিয়ে রঞ্জিতা নামটি দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় কিংবদন্তি নায়ক নায়করাজ। তিনি ছিলেন আমার বাবার বন্ধু। তিনিই আমাকে সিনেমায় এনেছেন। আজ রাজ্জাক চাচা নেই। তিনি যেনো ওপারে শান্তিতে থাকেন। মহান আল্লাহ যেনো চাচার আত্নাকে শান্তিতে রাখেন। তাকে যেন জান্নাত বাসী করেন ৷

রঞ্জিতা বলেন বাবার পরামর্শে ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমায় মাত্র একটাকা পারিশ্রমিক নিয়ে খুব অল্প বয়সে সিনেমায় শুরু করি। বাাবা চাচাকে বুঝিয়ে ছিলেন মেয়ে বেশি টাকা হাতে পেলে টাকার লোভ বেড়ে যাবে। এজন্য টাকা দিও না। কাজ করুক। এইতো, একে একে মোট ১৮টি সিনেমায় কাজ করি। ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমার একটি গান এখনো মানুষের মুখেমুখে ‘পাথরের পৃথিবীকে কাটে যে দিন’। সিনেমাটি ব্যবসা সফলতারপর একে একে আরও তিনটি সিনেমায় চুক্তিবন্ধ হই। ব্যপক আলোচনায় চলে আসি। চারদিকে আমাকে নিয়ে হইহই পড়ে যায়। এরই মাঝে একটি দুঃ ঘটনায় আমার বিয়ে হয়।

আমি তখন এইট/নাইনে পড়ি। সিনেমা কারছি এখান থেকে পরিচয় হয় ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই। তিনি আমাকে জোড় করে বেড়ানোর কথা বলে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিয়ে করেন।

ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের কারণে আমার জীবনটা তছনছ হয়েছে গেছে। আমাকে সে এক রকম জিদ করেই বিয়ে করে পালিয়ে বেরাতো। এরই মধ্যে আমি যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাই, পরে আমার বাবা অফিসার্স ক্লাবে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়। এই বিয়েটা ছিল আমার জীবনের প্রথম ভুল । কারণ উনি পূর্বেই বিবাহিত ও এক ছেলের বাবা ছিলো ! তার বাজে স্বভাবও ছিল। রোজ গালাগালি ও প্রায়ই মদ্য পান করে মারধর করতো আমাকে ৷ এমনো সময় গিয়েছে আমি না খেয়ে থাকতাম ৷ থাক, সে সব কথা নাইবা বলি। পরে নায়িকা রাকা এলো তার জীবনে। সে মেয়ে গভীর রাতে বাসায় এসে আমাকে ড্রয়ইং রুমে ঘুমাতে বলে সে উনার সাথে রাত যাপন করতো। নানা কথা, অপমান সহ্য করে আমি তার জীবন থেকে সরে আসি ৷ কিছুটা অভিমান নিয়েও বলতে পারেন সিনেমা পাড়া ছেড়েছি।

কারণ ওস্তাদের কথার দোহাই দিয়ে ফিল্মের লোকরা আমাকে আর কাজে ডাকতোনা ৷ কিন্তু আমি রন্জিতা প্রথমে, পরে ওস্তাদের কথা আসা উচিত। কারণ কিংবদন্তি নায়ক রাজ রাজ্জাক চাচার মাধ্যমে আমি চলচ্চিত্রে এসেছি ‘ঢাকা ৮৬’, ‘ জীনের বাদশাহ’ , ‘রাজা মিস্ত্রী’ পরে ওস্তাদ জাহান্গির আলম আমাকে ছবিতে আনেনি ৷ আমার বাবার টাকায় আমি প্রযোজকা ছিলাম ৷ মোট ১৮টি সিনেমা করি আমি। ১৩টি সিনেমা আমার নিজের প্রযোজনা।

প্রেমিক রংবাজ , মরন লড়াই , কুংফু কন্যা , ক্যারাটি মাস্টার ছবি গুলো বানিয়েছিলাম ৷ আজ ওস্তাদ ও রাকা মিলে আমার প্রডাকশন হাউজটাও বিক্রি করে সব ছবি অ্যালবাম গুলো কই তাও জানিনা ৷

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

 

কাঁদলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ
০৪ অক্টোবর ২০১৭ 597296 বার

উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন শাহরুখ কন্যা
০৫ অক্টোবর ২০১৭ 381272 বার