আজ সোমবার | ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ৬:৪৫

মেনু

মৃত্যুপুরী চকবাজার চুড়িহাট্টা
সিলেন্ডার গ্যাস ও কেমিক্যাল কারখানা

মৃত্যুপুরী চকবাজার চুড়িহাট্টা

  লেখকঃ রাশিম মোল্লা
শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
৮:৩৬ পিএম
856 বার

পুরান ঢাকার নিমতলী ট্রাজেডির পর বড় দুর্ঘটনা হলো চকবাজারের চুড়িহাট্টা দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮১ জন তাজা প্রাণ মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা না হত্যা তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কেননা মাত্র ৯ বছর আগে নিমতলীতে এর চাইতেও বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কেমিক্যাল কারখানাকে দায়ী করা হয়। দাবি ওঠে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেয়ার। প্রশাসনও একমত হয়েছিল।

কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এবারের আলোচনার বিষয়, চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হলো কীভাবে? আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, চুড়িহাট্টা বড় মসজিদের সামনে থাকা প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। ভেবেছিলাম বোমা ফেটেছে। দৌঁড়ে এসে দেখি প্রাইভেটকারে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের হোটেল ও কেমিক্যালের গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। এদিকে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এর কারণ আমরা জানি- প্রথম কারণটি একটি প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন লেগেছিল আরেকটি পিকআপভ্যানে। যেখানে প্রায় ৮-১০টা সিলিন্ডার পরিবহন করছিল।

ওই সিলিন্ডারগুলো একযোগে বিস্ফোরিত হয়ে পাশে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার ছিল এবং এসির কম্প্রেসারের ইউনিট ছিল সেখান থেকে আগুন লেগে যায় ইলেকট্রিক তারে। তিনি আরো বলেন, পাশে একটি হোটেল ছিল। এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলটিতেও। সেখানে ৪টি বড় সিলিন্ডার ছিল রান্নার। সেগুলোতেও আগুন লেগে যায়। এর ফলে ভয়াবহভাবে পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে যায়। কথা হয় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাওছারের সঙ্গে । তিনি বলেন, পাশের কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে আসা একটি গাড়ির সিলেন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণিত হয়। এরপর বিস্ফোরিত গ্যাস ট্রান্সমিটারসহ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আগুণ ছড়িয়ে পড়ে পাশের বিল্ডিংয়ে। সো, এই দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরি কেমিক্যাল কারখানাকে দায়ী করা যাবে না। এজন্য মূলত দায়ী সিলিন্ডার গ্যাস।

তবে এটা স্বীকার করছি দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুনের লেলিহান শিখা বেড়েছে। এর সঠিক বিচার করতে হলে অবশ্যই অনিরাপদ সিলন্ডিার গ্যাসকে দায়ী করতে হবে। আর কোম্পানিকেও এর দায় নিতে হবে। বেঁচে ফেরা সার্জেন্ট তৈয়েবুর রহমান তপু জানান, ভয়াবহ এই অগ্নিকা-ের প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। ‘আজরাইলকে দেখলাম। তবে তিনি আমাকে নেননি। ভাগ্যগুণে আমি বেঁচে গেছি। ওদের মতো আমিও পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারতাম।’ ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে সোয়ারিঘাটে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলযোগে চকবাজারের চুড়িহাট্টার গলি হয়ে বাসায় ফিরছিলাম। এখানে এসেই যানজটে পড়ি। মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার ও ঠেলাগাড়িতে আটকে ছিল চুড়িহাট্টা মসজিদের গলিটি। তখন রাত সাড়ে ১০টা। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই।

একটু দম নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই বিকট শব্দের পর ভয়ে আমি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাই। তখন দেখতে পাই মাত্র ২০-২২ ফুট দূরে চোখের সামনেই রাজ্জাক ভাবনে হু হু করে আগুন ধরছে। আমি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি যে, মসজিদের বাঁ-পাশের সরু গলি দিয়ে দৌড় দিই। কিছু দূর যাওয়ার পর পেছনে ফিরে দেখি, চুড়িহাট্টা গলির রাস্তার সব গাড়ি আর ভবন পুড়ছে।’ আর আগুনের এত দ্রুত বিস্তৃতির জন্য গলির কেমিক্যাল বোঝাই দোকানগুলো দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মানবজমিন

 

মন ভাঙ্গার কোন শব্দ নেই
০৮ এপ্রিল ২০১৯ 741 বার

ডেঙ্গু : গুজব না গজব?
০৯ অগাস্ট ২০১৯ 443 বার