আজ বুধবার | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ১১:২৫

মেনু

মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা

মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা

এস. আর খান সজীব
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
৭:০৫ অপরাহ্ণ
214 বার

এস. আর খান সজীব: একুশে ফেব্রুয়ারী বা শহীদ দিবসের ইতিহাস, আমাদের সকলেরই কমবেশী জানা আছে। তাই আজ আমি ইতিহাস নিয়ে কিছু লিখতে চাই না। শুধু আল কুরআনে মাতৃভাষার গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষাচর্চা নিয়ে কিছু লিখতে চাই।

আল কুরআনে মাতৃভাষার গুরুত্ব:
আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন বলেন, ” আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতীর ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য ” (সূরা – ১৪ ইব্রাহিম, আয়াত: ৪, পারা: ১৩)

আমরা জানি, তাওরাত কিতাব ইবরানী ভাষায়, জাবুর কিতাব ইউনানি ভাষায়, ইঞ্জিল কিতাব সুরিয়ানী ভাষায় ; এবং সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল কোরআন আরবী ভাষায় সর্বশেষ রাসূল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উপর নাজিল করা হয়। আল-কোরআনের ভাষা সম্পর্কে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, ” ইহা আমি অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝতে পারো ” ( সূরা :১২ ইউসুফ, আয়াত:২, পারা:১২) অর্থাৎ তাদের মাতৃভাষা ছিল আরবী; অন্যকোন ভাষায় নাজিল করলে তাদের বুঝতে ও অনুসরণ করতে কষ্ট হতো।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
বিভিন্ন তথ্য থেকে যতোদুর জানা যায়, কানাডায় বসবাসরত দুই বাঙালী জনাব রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম সাহেবের উদ্যোগে “Mother Language of the World” নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠে। ১৯৯৮ সালের প্রথম দিকে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট আবেদনপত্র পেশ করা হয়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো আবেদনের জবাবে জানায়, কোনো বেসরকারী সংগঠনের প্রস্তাব ইউনেস্কো বিবেচনা করতে পারে না। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিষয়টি দ্রুত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিকট পেশ করে।
১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো এর সাধারণ পরিষদের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি কে ” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ” হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিনে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা:
শুধু ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমাদের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভাষার প্রতি প্রীতি বেড়ে যায়। নানা রকম বর্ণ সম্বলিত পোশাক পরিধান, উপঢৌকন আরো কত কি। ভাষা চর্চাতেও দেখা যায় হযবরল অবস্থা। অর্থাৎ অশুদ্ধ বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি মিলিয়ে তথাকথিত ডিজুস বা বাংলিশ ভাষায় কথাবার্তা বলে থাকে। এছাড়া নাটক সিনেমাতেও এই সমস্ত ভাষার ব্যবহার বেড়ে যাওয়াতে তরুণ প্রজন্মের উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। যা ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর বলে আমি মনে করি।

শুধুমাত্র ভাষার জন্য প্রাণ একমাত্র বাঙালি জাতিই দিয়েছে। যার সীকৃতি স্বরূপ আমরা শুধু শহীদ দিবস নয় ” একুশে ফেব্রুয়ারি ” কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গৃহীত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। কাজেই ইহার মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সকলের।

-এস. আর. খান সজীব
প্রিন্সিপাল অফিসার, এবি ব্যাংক লি:
যুগ্ম-আহ্বায়ক, জাতীয় যুব সংসদ বাংলাদেশ

 

‘এটাই আমার শেষ খেলা না’-তামিম
১৮ অক্টোবর ২০১৭ 11116 বার

চিকন চালের দাম বৃদ্ধি
১২ অক্টোবর ২০১৭ 8102 বার