আজ রবিবার | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | সময় : দুপুর ১২:২২

মেনু

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে

প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী, উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :
রবিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৮
৬:৩৩ অপরাহ্ণ
1085 বার

দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৬ সালের ২৮ মে যাত্রা শুরু হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে চলতি বছরের ৩১ জাুনয়ারি যোগদান করেন। সম্প্রতি বিজনেস বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোর সামগ্রিক চিত্র, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক সমস্যা ও উত্তরণের নানা দিক তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সজীব বণিক।

-বিজনেস বাংলাদেশ: সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা কি?

উপাচার্য: মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বসেছেন। উনার ইচ্ছা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমানো। তবে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতি যদি হয় তাহলে মেডিক্যালের যেভাবে একসাথে পরীক্ষা হচ্ছে সেভাবে সব ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এক হতে পারে, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে এক হতে পারে। তবে মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক সাথে করা সম্ভব নয়। সমন্বিত পরীক্ষা হলে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেয়া ও বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

-বিজনেস বাংলাদেশ:  পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত। ভালো ফল কি একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত?

উপাচার্য: যারা শিক্ষক হবেন তাদেরকে অবশ্যই সবদিক দিয়ে পারদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। ক্লাসে বোঝানোর মতো সক্ষমতা থাকতে হবে। তার মানে এই নয় যে, অনার্স-মাস্টার্সে ভালো রেজাল্টধারীরাই একমাত্র ক্লাসে ভালো করে বোঝাতে পারবে, দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে। তাই শিক্ষক নিয়োগে ভাইভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেখানে বাচনভঙ্গি, দক্ষতা এসব কিছু মিলিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। তারপরও যাদের অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ভালো তারাই আসে আবার ব্যতিক্রমধর্মী অনেকেও আসে।

-বিজনেস বাংলাদেশঃ বিশ্ববিদ্যালয় তো গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার বড় একটি কেন্দ্র। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় কতোটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে নাকি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে?

উপাচার্যঃ গবেষণা যথেষ্ট হচ্ছে না।এ খনও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনাই বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। তবে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, ২০০৯ সালের পর থেকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গবেষণার জন্য প্রচুর ফান্ড দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে গবেষিত ১৫টি পেটেন্ট জমা দিয়েছে আমেরিকায়। ইউজিসি আশাবাদ ব্যক্ত করছে, ৭-৮টি পেটেন্ট আমরা পেয়ে যেতে পারবো, যা আমাদের জন্য গবেষণার পথকে আরো ত্বরান্বিত করবে।

-বিজনেস বাংলাদেশঃ অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকরাই ঠিকমত গবেষণা করেন না এতে আপনার মত কি?

উপাচার্যঃ শুধু শিক্ষকদের দোষ দিলে হবে না। আমাদের সবারই দোষ রয়েছে। শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা যেই হোক এসবের ক্ষেত্রে সবাইকে এ দায়ভার নিতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আরো জোর দিতে হবে, সচেতন হতে হবে। এতে শিক্ষা ক্ষেত্রে আরো গতি আসবে। তবে সবার ক্ষেত্রে নিজেদের পুরনো সংস্কৃতি পরিবর্তন করে ভাল কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

-বিজনেস বাংলাদেশঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?

উপাচার্যঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার পরিকল্পনা বড় পরিসরে। আমি ভিসি হিসেবে যোগদানের পর অনেক কিছুরই অভাব ছিল। অল্প রিসোর্সের মাধম্যে যথাসাধ্যচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার মনে হয়েছে, তাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকটাই গতি এসেছে। তাছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামো উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণে অনেক পিছিয়ে আছে। তাই অবকাঠামো উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণের জন্য বড় একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। আশাকরি খুব দ্রুতই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি কাঠামোতে দাঁড়াবে।

-বিজনেস বাংলাদেশঃ বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ দায় কার শিক্ষক নাকি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার?

উপাচার্যঃ সবকিছু তো আর শিক্ষকদের উপরে ছুড়ে দেয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান যদি অবনতি হয়, তাহলে শুধু শিক্ষক নয় বরং শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট কেউ দায় এড়াতে পারবে না। তাছাড়া পড়াশুনার মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবারই মনোযোগী হতে হবে।

-বিজনেস বাংলাদেশঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন কি?

উপাচার্যঃ নিঃসন্দেহে নয়। শিক্ষার্থীরা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোডাক্ট। আমাদের শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারলে কখনো ভাল প্রোডাক্ট হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না। বলতে গেলে, শিক্ষার বলয়ের জন্য যা যা দরকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছুরই অভাব রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় আছে। আশাকরি, এটা পেয়ে গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত শিক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশের কোনো সমস্যা হবে না।

-বিজনেস বাংলাদেশঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসনে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

উপাচার্যঃ সেশনজট এখনও আছে। তবে খুব দ্রুত উত্তরণের চেষ্টা চলছে। সেশনজট নিরসনে আমার বেশী সময় লাগবে না। তবে সেশনজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে- অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কাছে খাতা মূল্যায়নের জন্যে পাঠালে তারা দেরী করে। যা আমি, সিন্ডিকেট চাইলেও কিছু করতে পারবো না। সেশনজট ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের যত অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে তা খুব দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা চলছে।

– বিজনেস বাংলাদেশঃ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়, এমন স্থবিরতার কারণ কি?

উপাচার্যঃ আমাদের এক হতে হবে।সাংগঠনিকভাবে আমাদের জোর দিতে হবে, ঐক্য বাড়াতে হবে। ভালো ভালো কাজ করে দেশ ও সরকারকে দেখাতে হবে আমাদের ঐক্য আছে, আমাদের ভালো কাজ করার যথেষ্ঠ সামর্থ রয়েছে, ভালো কিছু করার সক্ষমতা আছে। তবেই আমরা সরকারকে বুঝাতে পারবো আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই উন্নয়নের যোগ্যতা রাখি। আশাকরি সব ঠিক হচ্ছে, সরকারের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছি। ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক এগিয়ে যাবে।

 

বিবি /ইএম

‘এটাই আমার শেষ খেলা না’-তামিম
১৮ অক্টোবর ২০১৭ 11201 বার

ঢাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি নেই
০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ 1992 বার