ঢাকা রাত ৩:৩৭, বৃহস্পতিবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভে অচল আসাম-ত্রিপুরা, কারফিউ জারি

ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভে জ্বলছে আসাম ও ত্রিপুরাসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত। বিজেপি নেতা অমিত শাহের উদ্যোগে সম্প্রতি লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়েছে এই বিল।

এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছে রাজ্য দুটির হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে আসামে কারফিউ জারি করেছে রাজ্য সরকার। আর ত্রিপুরায় নামানো হয়েছে সেনা। কিন্তু বৃহস্পতিবারও বিক্ষুব্ধ লোকজন কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।

মঙ্গলবার এই বিলের প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্র সংগঠনের আসামে ১১ ঘণ্টার বনধ পালিত হয়েছে। বুধবার এ নিয়ে ওই রাজ্যের কোনও সংগঠন আন্দোলনের ডাক দেয়নি। তারপরও হাজার হাজার প্রতিবাদী যুবক রাস্তায় নেমে আসেন যাদের অধিকাংশই ছাত্রছাত্রী। ফলে অচল হয়ে যায় রাজধানী গৌহাটি।

এসময় রাজধানীর দিসপুরের সচিবালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই কার্ফু জারি করা হয়েছে গৌহাটি ও ডিব্রুগড়ে। বন্ধ করা হয়েছে রাজ্যের মোবাইল-ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবা। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত সেনা।

বিক্ষোভে কারণে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত বৈঠকটি।এটি আসামের গৌহাটিতে হয়ার কথা ছিল।

এদিকে ত্রিপুরায় মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ফলে ১৭ জন আহত হন। এর প্রতিবাদে বুধবারও বহু জায়গায় পাল্টা প্রতিরোধে নামেন অ-উপজাতিরা। এসব বিক্ষোভে অবাধে লাঠি চার্জ ও কাঁদানে গ্যাস চালায় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বহু এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। আসাম ও ত্রিপুরার বিক্ষোভ মোকাবেলায় দেশের অন্য এলাকা থেকে ৫০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী উড়িয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে কাশ্মীর থেকেই আনা হয়েছে ২০ কোম্পানি।

বিক্ষোভের ফলে ওই দুই রাজ্যে বন্ধ রয়েছে যানবাহন ও রেল চলাচল। ত্রিপুরায় বৃহস্পতিবার বনধ ডেকেছে বিরোধী দল কংগ্রেস।

বিলটি পাস হওয়াকে ‘মারাত্মক’পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। তার দাবি এই বিল পাসের পর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ সে রাজ্যে ঢুকে পড়বে।

সোমবার ৭ ঘন্টা উত্তপ্ত বিতর্কের পর লোকসভায় বিতর্কিত বিলটি পাশ হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ৩১১টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ৮০টি। বুধবার এটি রাজ্যসভাতেও পাস হয়।

২০১৫-এর আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই বিলে। দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তি, আন্দোলনকারী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা অতি সত্ত্বর বিলটিকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন এবং সেটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

এ বিভাগের আরও সংবাদ