ঢাকা রাত ৮:৪৩, বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বদলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র

গত ২৩-২৬ ফেব্রুয়ারি চারদিন ব্যাপি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে সারা দেশের ৬০০ সচল বেসরকারি গণগ্রন্থগার নিয়ে প্রেক্ষাপট মুজিববর্ষ উপলক্ষে “বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেসরকারি গ্রন্থগারের ভূমিকা” শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক দেশের প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক মিনার মনসুর এর সভাপতিত্বে ৪ দিন ব্যাপি এই আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে সরকারের উচ্চ পর্যারের নীতি নির্ধারকসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। দেশে একটি চাঙ্গাভাবে পাঠাগার আন্দোলন গড়ে তোলতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই কর্মসূচী আয়োজন করে।

সেমিনারের প্রথমদিন মিনার মনসুরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, রংপুর সংরক্ষিত সাবেক সাংসদ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য এড হোসনেআড়া লুৎফা ডালিয়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াস।

একই জনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিন ছিলেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ অসিম কুমার উকিল, তৃতীয়দিন প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও চতুর্থদিন প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ অসিম কুমার উকিল।

আয়োজনে বক্তা ও শ্রোতাদের মনোমুগ্ধকর উন্মুক্ত আলোচনায় উঠে আসে বন্ধবন্ধুর সোনার তৈরীর নানা উদ্যোগের কথা এবং সে সাথে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরের মাথায় এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগটি নিয়েছেন বর্তমান পরিচালক। এতে করে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য সমাজে প্রতিফলিত হবার সম্ভাবনা জেগে উঠে। নানা অনিয়ম ও সমস্যার কথা বক্তা ও শ্রোতাদের মুক্ত আলোচনায় বের হয়ে আসে।

প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ বলেন “এই সম্ভাবনা আমরা ধরে রাখতে চাই, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়নে বেসরকারি গ্রন্থাগারের ভ‚মিকা অত্যধিক। তিনি এই আয়োজন এখন থেকে প্রতিবছর প্রত্যেক বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক “পাঠাগার হচ্ছে একটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত; বিদ্যুৎ এর দ্বারা যেমন অন্ধকার দূরীভূত হয়, ঠিক তেমনি পাঠাগারের মাধ্যমে মানুষের ভিতর জগৎ আলোকিত হয়”। এই পাঠাগার গুলোকে যেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আরো বেশি পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তার প্রতি তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াস বলেন “আমরা এই পাঠাগার নামক বাতিঘর গুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে এইমধ্যে অনেক ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যা আশা করি মুজিববর্ষেই বাস্তবায়ন করতে পারবো।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুর সংরক্ষিত সাবেক সাংসদ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য এড হোসনেআড়া লুৎফা ডালিয়া বলেন “আমি একটি পাঠাগারের উদ্যোক্তা, আমি জানি একটি পাঠাগার সমাজ পরিবর্তনে কতটা প্রভাব বিস্তার করে; তাই আমাদের সরকার এই দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে।”

দ্বিতীয় দিনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ অসিম কুমার উকিল বলেন “দেশে আলোকিত মানুষ তৈরীতে তৃণ্যমূলে পাঠাগার গুলো এতো কার্যকরি ভ‚মিকা রাখছে তা আমি আগে জানতাম না, এই আপনাদের দেখে মনে হল নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য আপনারা যে পরিশ্রম করছেন তা সত্যিই অভাবনীয় কর্ম। আপনার এই কার্যক্রম কে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা সরকারের পক্ষ হতে সব ধরনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবো তবে তা রাতারাতি করতে পারবো না, আমাদের কে কিছু সময় দিতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক মিনার মনসুর তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। এতে পুরো অনুষ্ঠানের বক্তা ও পাঠাগার উদ্যোক্তাগণ অনেক উজ্জিবীত হন। জনাব প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক মিনার মনসুর শুরুতেই তার ধারণা পত্রে পুরো অনুষ্ঠানটির একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। যা অনুষ্ঠানটি ভিন্ন মাত্রা দান করে। সভাপতির বক্তব্যে প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক মিনার মনসুর একটি সুপারিশমালা উত্থাপন করেন, যেখানে তিনি মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ১ হাজার টি পাঠাগারে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে একটি করে মুজিব কর্ণার স্থাপন করবে বলে ঘোষণা দেন।

এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে পাঠাগার গুলোতে প্রযুক্তির সুবিধার পৌছে দিতে বিভিন্ন উদ্যেগের কথা জানান। পাঠাগার উদ্যোক্তাদের মধ্য হতে পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশ এর উদ্যোক্তা ইমাম হোসাইন বলেন “পাঠাগার হচ্ছে গণমানুষের বিশ্ববিদ্যালয়; যেখানে সব বয়সের সব পেশার পাঠকের সমাগম ঘটে, একটি এলাকায় পাঠাগার তথ্য কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। সরকারের উচিত এই পাঠাগার গুলোর যাবতীয় সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা, সে সাথে একটি জ্ঞানভিত্তি সমাজ বিনির্মাণের জন্য সরকারের পাশাপাশি সকল উন্নয়ন সংস্থা বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজন।”

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ