আজ বৃহস্পতিবার | ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং
| ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ১:১৬

মেনু

পঞ্চগড়ে বৃদ্ধা মাকে মারধর, ছেলে আটক

পঞ্চগড়ে বৃদ্ধা মাকে মারধর, ছেলে আটক

মু. আবু নাঈম, পঞ্চগড়:
রবিবার, ০৭ জুলাই ২০১৯
৮:১৯ অপরাহ্ণ
365 বার

পঞ্চগড়ে শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগে মোঃ ফারুক হোসেন (৪৫) নামের ছেলেকে আটক করেছে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।
০৭ জুলাই (রোববার) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে তাকে আটক করা হয়। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।

তবে থানাহাজতে থাকা অভিযুক্ত ছেলে ফারুক হোসেন তার মাকে মারধর করেননি বলে দাবি করে বলেন, বাড়ি ভিটের জমিজমা নিয়ে ভাইদের সঙ্গে দ্বন্দের জেরে অন্য ভাইয়েরা তার মাকে ভুলভাল বুঝিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়ছেন।
জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের ফুলপাড়া এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের স্ত্রী শতবর্ষী বৃদ্ধা হাফেজা বেওয়া। ৫ ছেলে ও ৫ মেয়ের মধ্যে সবার বিয়ে হয়েছে।

গত শনিবার রাতে ওই মা তার ছেলে ফারুক হোসেন, পুত্রবধূ ইনছানা বেগম (৩৫) এবং নাতি ইসমাইল হোসেনের (২২) বিরুদ্ধে তাকে মারধর করে স্বামীর ভিটেছাড়া করার চেষ্টার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী মা হফেজা বেওয়া বর্তমানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে ফারুক হোসেন তার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বৃদ্ধা মা হাফেজা বেওয়ার শোয়ার ঘর ভাঙতে থাকেন। এতে বাধা দিতে গেলে ছেলে ফারুক হোসেন তাঁকে এলোপাতাড়ি চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন এবং ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তার মেজ ছেলে শফিউল্লাহসহ অন্যরা এগিয়ে এসে হাফেজা বেওয়াকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন রোববার দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। নির্যাতিতা বৃদ্ধা ছেলে ও পুত্রবধূর নির্যাতনের বর্ণনা দেন জেলা প্রশাসককে। এ সময় জেলা প্রশাসক চিকিৎসকদের কাছে তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা দেন।

বৃদ্ধা হাফেজা বেওয়া বলেন, আমার ছোট ছেলে ফারুক, তার স্ত্রী ইনসানা ও তাদের ছেলে হৃদয় আমার উপর খুব নির্যাতন করে। আমাকে প্রায় সময় ধরে মারে। এর আগে একদিন ছেলের স্ত্রী ইনসানা আমার শৌচাগারের বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে রেখেছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নাতি হৃদয় আমার কুঁড়েঘরটার একাংশ ভেঙে দেয়। এ সময় একটা বড় বাঁশ ভেঙে আমার মাথায় পড়ে আহত হই। এক মাস আগেও আমাকে ওরা কিলঘুষি মেরেছিল। আমি কানে কম শুনি, অসুস্থ, চলতে পারি না। এই বয়সে ছেলে ও বউমার নির্যাতন আর সহ্য তরতে পারছি না।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রতীক কুমার বণিক বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই বৃদ্ধাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার ভালোর দিকে। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন উজ জামান বলেন, শনিবার রাতেই নির্যাতিতা ওই বৃদ্ধা নারী ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতির বিরুদ্ধে মারপিটের একটি অভিযোগ দেন। রোববার দুপুরে অভিযুক্ত ছেলে ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

রবিবারেই থেমে যাবে বৃষ্টি
২১ অক্টোবর ২০১৭ 641669 বার

সুষমা স্বরাজ ঢাকায়
২২ অক্টোবর ২০১৭ 639810 বার

কাঁদলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ
০৪ অক্টোবর ২০১৭ 523721 বার