আজ মঙ্গলবার | ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং
| ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ১০:৩৮

মেনু

দেশে ব্যাংকবহির্ভূত টাকা দ্রুত গতিতে বাড়ছে
বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে ব্যাংকবহির্ভূত টাকা দ্রুত গতিতে বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৯
৯:৫১ অপরাহ্ণ
25 বার

তারল্য সংকটের তীব্রতা কমলেও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি ব্যাংক খাত। আমানতকারীরা বড় অঙ্কের কোনো টাকা তুলতে গেলে সময়মতো টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক ব্যাংক। তাহলে কোথায় যাচ্ছে টাকা। তথ্যমতে ছাপানো টাকা বৃদ্ধির চেয়ে দেশে ব্যাংকবহির্ভূত টাকার পরিমাণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকিং খাত থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে টাকা। অপরদিকে ব্যাংকবহির্ভূত টাকা অর্থাৎ জনগণের কাছে থাকা টাকার পরিমাণ বাড়ছে। তাহলে কি আস্থাহীনতার কারণে মানুষ এখন ঘরে টাকা রাখছে? অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ব্যাংকবহির্ভূত টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। তার ছয় মাস পর (জুলাই) সেই টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও এ টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। জুলাই মাসে এর পরিমাণ আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ছাপানো মুদ্রার পরিমাণ ১২ লাখ ২৯ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। সব সময়ই ছাপানো নোটের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভল্টে জমা থাকে। জনগণের হাতে থাকে সামান্য অর্থই। চলতি বছরে জুলাইয়ে ব্যাংকের বাইরে জনগণের হাতে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। আর মে মাসে এ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাইয়ে যেখানে মোট নোটের পরিমাণ বেড়েছে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ সেখানে জনগণের কাছে থাকা নোটের পরিমাণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।

মে মাসে গ্রাহকের কাছে নোটের পরিমাণ বাড়ে ২৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মোট নোটের সংখ্যা বাড়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ ছাপানো নোটের মধ্যে বেশিরভাগই জনগণের হাতে চলে গেছে। কিন্তু সাধারণত ব্যাংকে থাকা এবং ব্যাংকের বাইরে থাকা নোটের পরিমাণ বাড়ে প্রায় কাছাকাছি। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে যখন ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনে পথ সুগম হয় তখন ব্যাংকের অর্থ মানুষের কাছে চলে যায়। মানি লন্ডারিং আইনের ফলে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখতে হলে তার উৎস জানাতে হয়। কেউ অধিক পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখলে তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বড় অঙ্কের অবৈধ অর্থ দুষ্কৃতকারীদের কাছে থেকে যায়।

এই অবৈধ অর্থ দিয়ে ডলার, ইউরো বা স্বর্ণ কিনে বাসা বা নিরাপদ জায়গায় রেখে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবৈধ উপার্জনের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। ব্যাংকগুলোয় অর্থ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে গত বছর থেকে। সেই সংকট এখনো কাটেনি। ঋণ আমানত সীমা (এডিআর) বছর দুয়েকজুড়ে কখনো সীমার বাইরে কখনো সীমার কাছাকাছি রয়েছে। জণগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ বাড়াতে না পেরে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই। এ জন্য চলতি বছরের শুরু থেকে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির হার রেকর্ড পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। আগের বছরের আগস্টে যা ছিল ৯ লাখ ১০ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ওয়েবসাইটে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের পর থেকে প্রতিমাসে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির চিত্র দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো মাসে ঋণ বিরতণের বৃদ্ধির হার এত কম হয়নি। অর্থাৎ এক দশকের মধ্যে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম হয়েছে গত আগস্টে। জানুয়ারির পর থেকে প্রতি মাসেই ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির হার কমার রেকর্ড গড়েছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/শ

ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ছে
০৫ অক্টোবর ২০১৭ 119250 বার

বিকাশে কেনা যাবে বিমান টিকেট
১২ অক্টোবর ২০১৭ 76222 বার