আজ মঙ্গলবার | ২০ আগস্ট, ২০১৯ ইং
| ৫ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | সময় : সন্ধ্যা ৭:৩৭

মেনু

তিন বছরেও স্মার্ট কার্ড পায়নি ঢাবির শিক্ষার্থীরা
কোটি টাকা আদায়

তিন বছরেও স্মার্ট কার্ড পায়নি ঢাবির শিক্ষার্থীরা

নুরুল আফছার মুন্না, ঢাবি প্রতিনিধি
বুধবার, ০৭ আগস্ট ২০১৯
৬:৪২ অপরাহ্ণ
2039 বার

ভর্তির তিন বছরেও ঢাবি শিক্ষার্থীরা পাননি স্মার্ট কার্ড (বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র)। অথচ স্মার্ট কার্ড বাবত শিক্ষার্থীদের নিকট হতে কোটির টাকারও বেশি টাকা আদায় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কার্ড দেয়া না হলেও বেড়েছে এ বাবত ধার্য্যের পরিমান।

স্মার্ট কার্ড বাবত ২০১৬-১৭ সেশনের ৬৬৩৬ জন শিক্ষার্থীর নিকট হতে ৫০০ টাকা হারে প্রায় ৩৩ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ সেশনের ৭০৮৩ জন শিক্ষার্থীর নিকট হতে ৬০০ টাকা হারে প্রায় ৪২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮ শত টাকা এবং সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সেশনের ৭১২৮ জন শিক্ষার্থীর নিকট হতে ৬০০ টাকা হারে প্রায় ৪২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮ শত টাকা আদায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে স্মার্ট কার্ড বাবত প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আদায় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় ধার্য্যকৃত টাকা আদায় করা হলেও তিন বছরেও স্মার্ট কার্ডের দেখা পায়নি ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

স্মার্ট কার্ড দেয়া না হলেও বেড়েছে এর জন্য ধার্য্যকৃত টাকার পরিমান। ২০১৬-১৭ সেশনে ৫০০ টাকা থাকলেও ২০১৭-১৮ সেশনে এটি ১০০ টাকা বেড়ে হয় ৬০০ টাকা।

তবে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সকল শিক্ষার্থীই স্মার্ট কার্ড (পরিচয় পত্র) পেয়েছেন ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের পরে থেকে।

সে বছর, ২৮ আগষ্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রথমবারের মতো ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরন কার্যক্রম উদ্ভোদন করেন। স্মার্ট আইডি কার্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে তখন তিনি দাবি করেন।

কিন্তু পরে দৃশ্যত এই ডিজিটাইজেশনের কাজ এগোয় নি। এর কিছুদিন পরে ৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও আচার্য আব্দুল হামিদ বর্তমান উপাচার্য আখতারুজ্জামানকে নিয়োগ দেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বুধবার (৮ আগস্ট) বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষে পড়েও তাদের স্মার্ট কার্ড পায়নি এটা অবশ্যই হতাশা জনক। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এর কার্যক্রম পরিচালনা করবো। এসময়ে স্মার্ট কার্ডের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।’

স্মার্ট কার্ড সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা সুব্রত কুমার আদিত্য বলেন, কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে ২ মাসের মধ্যেই আইডি কার্ড পেয়ে যাবেন শিক্ষার্থীরা। এই কার্ডে মোট ২৮ টি তথ্য থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিলম্বিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গত মে মাসে দায়িত্ব পেয়েছি। এর আগে কি হয়েছে তা সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় পূর্বে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে কল দেয়া হলে তিনি ফোন তোলেন নি। পরে তার অফিসে গেলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

স্মার্ট কার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত-

তাত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত চক্রবর্তী বলেন, স্মার্ট কার্ডের জন্য বছর বছর টাকা নেয়া হচ্ছে কিন্তু তা দেয়া হচ্ছে না। এটি প্রশাসনের ব্যার্থতা। প্রথম বর্ষ থেকেই আমরা এই কার্ডের কথা শুনে আসছি।

মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এস রহমান অন্তর বলেন, স্টেডিয়ামে টেস্ট খেলা দেখতে গেলাম। হল আইডি কার্ড দেখাতেই তারা আমাদের বিশ্বাস করেইনি বরং আমাদের বলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্ড দেখাতে।

ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের ১৭- ১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পলক বিশ্বাস বলেন, আমাদের হল থেকে আইডি কার্ড দেয়া হয় হলের জন্য কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজেও এই কার্ডেই কাজ চালাতে হয়। আর এই কার্ড দেখতেও এমন মানানসই নয়। প্রশাসনের উচিত প্রথম বর্ষে ভর্তির ৭/৮ মাসের মধ্যেই সকলের স্মার্ট কার্ড দিয়ে দেয়া। যদিও এ সময়ও অনেক বেশি।

অনেক শিক্ষার্থী স্মার্ট কার্ড সম্পর্কে জানেনই না। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক সাবেক-বর্তমান মিলিয়ে ৭৩ হাজার সদস্যের একটি গ্রুপে স্মার্ট কার্ড নিয়ে আলোচনা করলে একজন প্রশ্ন করে বসেন স্মার্ট কার্ড কি? কার্ড না পেয়ে আক্ষেপও প্রকাশ করেন অনেকে।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ আজ
২২ অক্টোবর ২০১৭ 48765 বার

জাবিতে ফেনসিডিলসহ আটক ১
২৪ অক্টোবর ২০১৭ 48696 বার