আজ বুধবার | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ১০:৫১

মেনু

তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় ব্যতিক্রমী আহ্‌বাবুর রহমান মুন্না

তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় ব্যতিক্রমী আহ্‌বাবুর রহমান মুন্না

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
১:৩৬ অপরাহ্ণ
1391 বার

মানুষের জীবনের চিত্রপট যে কতভাবে বাঁক নিতে পারে তা বোঝা যায় তার গল্প শুনালেন এস এম আহ্‌বাবুর রহমান (মুন্না)। বর্তমানে তরুণ মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপকদের প্ল্যাটফর্ম “এইচআর স্পিকস বাংলাদেশ” এর মাধ্যমে তিনি আলোচনায় এসেছেন। নানা গুণের অধিকারী এই মানুষটি সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে “এইচআর গুরু” পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। একজন মানুষ হিসেবে হয়ে উঠছেন কর্পোরেট চাকুরীতে আগ্রহী তরুণদের প্রেরণার বাতিঘর।  সম্প্রতি তার সাথে কথা হয় বিজনেস বাংলাদেশের সাথে। সাক্ষাতকারে তিনি কর্পোরেট জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।  সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বেনজির আবরার।

বিজনেস বাংলাদেশ- কেমন আছেন?

আহবাব মুন্না- জ্বী ভালো আছি।

বিজনেস বাংলাদেশ-  আপনার ব্যাক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই?

আহবাব মুন্না- জন্ম নিয়েছি সিলেটে, বাবা ছিলেন বাংলাদেশ ক্যামিকাল ইন্ড্রাস্টিজ কর্পোরেশনের চিফ একাউন্টস অফিসার। মা গৃহীনি। বাবার চাকুরির কারনে তিনটি স্কুলে পড়াশোনা করেছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তখনকার প্রথম ধাপ মাধ্যমিক শেষ করেছিলাম পলাশ সার কারখানা উচ্চ বিদ্যালয়, নরসিংদীতে। এরপর গল্পটা পরিবর্তন হয়েছে দ্রুত, এইচএসসি পাশ করি  তেজগাঁও কলেজ থেকে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্পটা আরো ব্যতিক্রম,ইংরেজিতে স্নাতক শেষে ঢাবির আইবিএ করি এইচআরএমসি থেকে।

বিজনেস বাংলাদেশ-  আপনার একটি উক্তি ” পরিবর্তন হোক সবকিছুতেই” যেটা কর্পোরেট জগতে বেশ জনপ্রিয়। এসব বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?

আহবাব মুন্না- আসলে আমরা যে প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি সেটা একটু ভিন্ন। দেশে নানা ধরণের প্রফেশনালসদের গ্রুপ  থাকে, আমাদের গ্রুপটি একটু অন্যরকম। তরুণ চাকুরীপ্রার্থী থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদাধিকারী পর্যন্ত আমাদের এইচআর স্পিকসের মাধ্যমে সুবিধা নিতে পারেন। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনের একটা সুবিশাল ট্রেন্ড চলছে। এখন যারা এই মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তারা যদি পরিবর্তনটাকে সহজভাবে প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিতে পারেন তবেই সম্ভব মৌলিক পরিবর্তন।

বিজনেস বাংলাদেশ-  আপনার অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে নানা ধরণের বড় স্বীকৃতি। একজন তরুণ হিসেবে বিষয়টাকে কিভাবে দেখেন-

আহবাব মুন্না – আসলে অর্জন সবসময়ই আনন্দের। কাজের স্বীকৃতি কাজের আগ্রহ বাড়ায় আর চাপও বাড়ায়। বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপকদের মধ্যে ক্যারিয়ারের দশবছরে সফলতার স্বীকৃতিস্বরুপ দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভূষিত হয়েছি“এইচআর গুরু” হিসেবে, এছাড়া এদেশীয় জনপ্রিয় কনসালটেন্সী ফার্ম “এইচআর স্পিকস বাংলাদেশ” এর লিড কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, এছাড়া বড় কিছু কাজ নিয়ে এবছর জুড়ে মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনায় একটা মাইলফলক তৈরী করতে কাজ শুরু করবো।

বিজনেস বাংলাদেশ- আপনার সফল কর্মজীবন সম্পর্কে যদি জানাতেন?

আহবাব মুন্না- আমি এখনই নিজেকে সফল দাবি করতে নারাজ।অনেক পথ পাড়ি দেয়া বাকি, বাংলাদেশে এইচআর বিষয়টি সকল ক্ষেত্রে যথাযথ প্রয়োগ করতে আমার অনেক স্বপ্ন বাকি। কর্মজীবনের প্রথমে উইংস সেন্টার, এক্সিকিউটিভ অপারেশন, পলমল গ্রুপের এইচআরে, অলিম্পিক ইন্ডাস্টিজ লিঃ, সুপারস্টার গ্রুপে, মদিনা গ্রুপে হেড অব এইচ আর হিসেবে কর্মরত ছিলাম এরপর এবছরের শুরুতে স্বনামধন্য বেসরকারী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিস্টান ” ডরিন পাওয়ার লিমিটেড” এর হেড অফ এইচআর হিসেবে যোগ দেই। ব্যাস্ততম কর্মজীবনে আমি বরাবরই প্রাধাণ্য দিয়েছি মানবসম্পদ উন্নয়ন কে।

বিজনেস বাংলাদেশ- এদেশীয় মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাই-

আহবাব মুন্না- “বাংলাদেশে এইচআর ফিল্ডে একটা পরিবর্তন বা আলোড়ন এসেছে ২০০০ পরবর্তী সময়ে। আগে বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠান এইচআর ছিলোনা, বর্তমানে বহুজাতিক এবং এদেশীয় মোটামুটি সকল বড় কোম্পানী এইচআর বিভাগকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে থাকে। কর্মী অন্ত:প্রাণ হতে হয় মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপককে। পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে সময় দিচ্ছি কারণ এটা একটা বুমিং সেক্টর, একটা সময় অনেক উপরে উঠবে আরো। ইন্জিনিয়ারদের সাথে কাজ করা হচ্ছে, তাদের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ থাকায় এককথায় চ্যালেন্জিং হচ্ছে পুরো ব্যাপারটাও।

বিজনেস বাংলাদেশ- এইচআর স্পিকস নিয়ে স্বপ্ন?

আহবাব মুন্না- আসলে অন্য ফার্মগুলোর মত শুধু ট্রেনিং করিয়ে শেষ এই থিমটাতে আমরা বিশ্বাস করিনা, ফ্রেশার্সদের ক্ষেত্রে শুধু ট্রেনিং দিয়ে নয়, তাকে জব মার্কেটে প্রবেশ করাতে সর্বোচ্চ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে তার পাশে থাকার চেষ্টা করি আমরা এইচআর স্পিকস বাংলাদেশ পরিবার।” শুধু তাই নয়, প্রফেশনালস দের ক্ষেত্রে যেভাবে ট্রেনিং দেয়া হয় তা নিজের কর্মক্ষেত্রে কিভাবে কাজে লাগানো যাবে, করতে গিয়ে কি কি বাঁধা আসবে, বাঁধাগুলো অতিক্রমের পদ্ধতি নিয়েও এইচআর স্পিকস পাশে থাকবে। আমাদের নতুন বছরের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, দেশের বিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে কথা বলা, আইডিয়া জানা এবং শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরী করা পুরো কমিউনিটিতে। এছাড়া এইচআর স্পিকসের ট্রেনিং, হেড হান্টিং, স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেবা তো রয়েছেই।  এদেশীয় মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনায় আরো অনেক গুণগত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, আমরা সেসব বিষয় নিয়েও কাজ করতে চাই।” ভবিষৎটা স্বপ্নের সমান বড় করার দৃপ্ত শপথে এগিয়ে যেতে চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ- ব্যাক্তিজীবনের বাইরে যা করছেন?

আহবাব মুন্না- পেশাগত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিয়মিত কলাম লিখি মানবসম্পদ উন্নয়নে এবং তরুণদের পেশাগত পরামর্শ দিয়ে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে। এছাড়া বিএসএইচআরএমের এসোসিয়েট মেম্বার, এনএসইউ ইএমবিএ ফোরামের এক্সিকিউটিভ মেম্বার, আইবিএ এমডিপি এলামনাই এসোসিয়েশনের মেম্বার হিসেবে যুক্ত রয়েছি দীর্ঘদিন ধরে।

বিজনেস বাংলাদেশ- সিলেট থেকে ঢাকা, জয়রথ চলছে। কেমন লাগে আজকের সময়ে, কতটা বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

আহবাব মুন্না- আলহামদুলিল্লাহ্। আসলে দেখেন একসময় যেখানে এইচআর ছিলোনা প্রতিষ্টানে, আজ সেখানে একটি বড় তরুণ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্টা করেছি আমরাই। গুণগত মানের প্রতি সর্বোচ্চ খেয়াল রেখে নতুন বাংলাদেশ তখনই ঘঠন হবে যখন তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং প্রতিটি কর্মজীবির অধিকার প্রতিষ্টিত হবে। বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, দক্ষতার বিকাশ যদি স্কিল ডেভেলপমেন্টে হয় তবে অনেক কিছু সম্ভব।

বিজনেস বাংলাদেশ– তরুণদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ –

আহবাব মুন্না- অনেকেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সে অনুযায়ী, সেই বিষয় এ স্নাতক পর্যায়ে পড়ালেখা শুরু করতে পারছে না, যে বিষয়ে চান্স পাচ্ছে সে বিষয়ে ই ভর্তি হয়ে যাচ্ছে এবং পাস করে বের হওয়ার পর চাকুরীর অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপলব্ধি করে যে স্নাতক পর্যায়ে বিষয় নির্বাচন সঠিক ছিল না।

অনেকে ছাত্রজীবনে শুধু লেখা পড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, অন্য কোন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকেন না। মনে রাখতে হবে শুধু ভাল ছাত্র বা ভাল জিপিএ থাকলেই চাকুরী পাওয়া যাবে এমন কোন কথা নেই, পাশাপাশি অন্যান্য গুণাবলী থাকা চাই। গবেষনায় দেখা গেছে, ছাত্রজীবনে যারা পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন; বিতর্ক, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখা, খেলাধুলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব/ সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন এবং যারা টিভি চ্যানেল বা এফ এম রেডিও এর খন্ডকালীন সংবাদ পাঠক, সংবাদ পত্রের ক্যাম্পাস রিপোর্টার, বড় বড় ক্যাফে/ রেস্টুরেন্ট এর খন্ডকালীন বিক্রয় সহকারী হিসাবে কাজ করেন তাদের মধ্যে স্মার্টনেস, আত্ববিশ্বাস, লিডারশিপ, ইন্টারপার্সোনাল কমিউনিকেশন স্কিলস, টিমওয়ার্ক ইত্যাদি গুণাবলী গড়ে উঠে যা চাকুরী লাভের জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং তারা পেশাগত জীবনে অন্যদের চেয়ে অনেক ভাল করেন।

বর্তমান যুগ হচ্ছে নেটওয়ার্কিং এর যুগ, যার স্যোসাল নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ তিনি পেশাগত জীবনে ভাল করছেন। তরুণরা কিছু বিষয় মাথা রাখলেই অনেক কিছু সম্ভব।

বিজনেস বাংলাদেশ– আপনার মুল্যবান পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন সবসময়।

আহবাব মুন্না- বিজনেস বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ।

‘এটাই আমার শেষ খেলা না’-তামিম
১৮ অক্টোবর ২০১৭ 11110 বার

ঢাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি নেই
০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ 1979 বার