ঢাকা রাত ১১:৩৬, শনিবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১১ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঢাকার বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম

বিফলে গেল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ত্যাগ। বাঁচা-মরার (এলিমিনেটর) ম্যাচ হেরে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে গেলে ঢাকা প্লাটুনের। বড় জয়ে কোয়ালিফায়ারে উঠল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ১৪৫ রানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেমে ১৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জিতে গেল বন্দর নগরীর দল।

আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি শাদাব খানের ব্যাটে ভর দিয়ে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানের পুঁজি পায় ঢাকা প্লাটুন। জবাবে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে য়ায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

তুলনামুলক সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে দারুন সূচনা করে বন্দর নগরীর দল। ক্রিস গেইলের সাথে ৪২ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন জিয়াউর রহমান। মেহেদি হাসানের বলে এনামুল হকের হাতে ধরা পড়ার আগে মাত্র ১২ বলে ৩টি চার ও ২ ছয়ে ২৫ রান করে এই ওপেনার।

এরপর ইমরুল কায়েসকে সঙ্গী বানিয়ে টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকেন গেইল। ফলে চট্টগ্রামের রান তোলার গতি কমে আসে। গতি বাড়াতে গিয়ে শাদাব খানের শিকার হন ইমরুল। বিদায়ের আগে ২২ বলে ১টি চার ও ৩ ছক্কায় ৩২ রান করেন তিনি।

এক ওভার পরেই ফিরে যান গেইল। শাদাব খানের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৪৯ বলে ১টি চার আর ২ ছক্কায় ৩৮ রান করেন ক্যারিবীয় মহাতারকা। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি চট্টগ্রামকে। ব্যাটে ঝড় তুলে চট্টগ্রামকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তাকে দারুন সঙ্গ দেন ওয়ালটন। চার ছক্কায় মাত্র ১৪ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। আরেক প্রান্তে ১২ রানে ছিলেন ওয়ালটন। এই জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে পৌঁছে গেল চট্টগ্রাম।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাঁ হাতে ১৪ সেলাই নিয়েও খেলতে নামেন ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। স্কোর বোর্ডে ৪৩ রান জমা করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। এক এক করে সাজঘরে ফিরে যান তামিম ইকবাল, এনামুল হক, লুইস রিস, মেহেদী হাসান ও জাকের আলীরা।

একপ্রান্ত আগলে রাখলেও শেষ অবধি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করা মুমিনুল হকও। ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে বিদায় নেন তিনি। তার আগে তিনটি চার আর এক ছক্কায় ৩১ বলে ৩১ রান করেন মুমিনুল।

মুমিনুলের বিদায়ের পর আরো চাপে পড়ে ঢাকা। এই পরিস্থিতিতে দলের সংগ্রহ বাড়াতে চেষ্টা করেন পাকিস্তানি শাদাব খান। তাকে সঙ্গ দেন থিসারা পেরেরা। ব্যাটে ঝড় তুলে মাত্র ১৩ বলে ৩টি চার আর ১ ছক্কায় ২৫ রান করে বিদায় নেন তিনি। রুবেল হোসেনের বলে জিয়াউর রহমানের তালুবন্দি হন এ লঙ্কান অলরাউন্ডার।

পেরেরার বিদায়ের পর ব্যাট হাতে মাঠে নামে মাশরাফী। হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই শাদাবকে সঙ্গ দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাদাবের ব্যাটে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান করে ঢাকা প্লাটুন। ৪১ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছয়ে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন শাদাব। অপর প্রান্তে দুই বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে অপরাজিত মাশরাফী।

চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন রায়াদ এমরিট। এছাড়া ২টি করে উইকেট পেয়েছেন রুবেল হোসেন ও নাসুম আহমেদ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ