আজ শনিবার | ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
| ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | সময় : বিকাল ৪:৪৮

মেনু

‘টেকনাফ টু তেতুলিয়া’ দৌড়ে পার করতে চান মুনা

‘টেকনাফ টু তেতুলিয়া’ দৌড়ে পার করতে চান মুনা

নুরুল আফছার মুন্না
শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯
৬:৩৬ পিএম
133 বার

সাদিয়া ইসলাম মুনা । ভালোবাসেন খেলাধুলা করতে। স্কুল-কলেজে চ্যাম্পিয়ন। ধারাবাহিতা ধরে রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও। নিজের করে নিয়েছেন ৫৩ টি মেডেল, ৯ টি ক্রেস্ট এবং ৫ টি ট্রফি। তাকে নিয়ে লিখেছেন নুরুল আফছার মুন্না।

সাদিয়া ইসলাম মুনা। ছোট বেলা থেকে আগ্রহ না থাকলেও কিশোরবেলা সঁপেছেন খেলাধুলায়। এ জগতে তার পদচারণা অষ্টম শ্রেণিতে উঠে। তখন তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জ আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গণিতে পাকা হওয়ায় গণিতের শিক্ষক নীলকন্ঠ বিশ্বাসের সাথে ভালোই সম্পর্ক গড়ে উঠে মুনার। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে নীলকন্ঠ বিশ্বাস তাকে ডেকে নিয়ে খেলাধুলায় অংশ নিতে বলেন। তার প্রিয় স্যারের কথা অনুযায়ী প্রথমবারের মতো খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা। প্রথমবার হলেও খালি হাতে ফেরেননি মুনা।

জয়ী হয়েছেন বিস্কুট খেলায়। এছাড়াও অংশগ্রহণ করেন উচ্চ লম্ফ, গোলক নিক্ষেপ ও চাকতি নিক্ষেপে। তারপর থেকে আর খেলায় অংশগ্রহণের জন্য কাউকে বলে দিতে হয়নি। সে বছরের একটি পুরষ্কারই খেলাধুলার প্রতি তার ভালোবাসা ও আগ্রহ জন্মিয়ে দিয়েছে।

পরবর্তীতে স্বপ্রণোদিত হয়েই খেলাধুলায় অংশ নিতেন। শুরু করেছিলেন খেলাধুলার অনুশীলন। সুফল পেয়েছেন পরবর্তী বছরেই। নবম শ্রেণিতে পুরষ্কৃত হয়েছেন গোলক ও চাকতি নিক্ষেপে। দশম শ্রেণিতেও জয়ের ধারাবাহিতা ধরে রাখেন। চ্যাম্পিয়ন হয়েই স্কুল ত্যাগ করেন। পুরষ্কারের সাথে সাথে অর্জন করেন স্কুলে সুখ্যাতি ও শিক্ষকদের ভালোবাসা।

স্কুলের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে। থাকতেন কলেজের পাশে একটি বাসায় ‘সাবলেট’। হঠাৎ একদিন কলেজের নোটিশ বোর্ডে খেলাধুলায় আগ্রহীদের নাম জমাদানের নোাটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হলো। ক্লাসে ক্লাসে ঘোষণা দেয়া হলে মুনা আর দেরি করেননি। লিস্টে অন্তভূক্তি করালেন নিজের নাম। পড়াশুনার চাপ তো আছেই তার পাশাপাশি নিজেকেই করতে হতো বাসার সব কাজ। সাথে যোগ হলো কলেজের খেলাকে কেন্দ্র করে দিন-রাতের অনুশীলন।

স্বপ্ন দেখতেন কলেজ চ্যাস্পিয়ন হওয়ার। অনুশীলন-ক্লাস, অনুশীলন-পড়াশুনা হয়ে উঠেছে তার কর্মচক্র। কঠোর অনুশীলনের ফলস্বরূপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বর্শা, চাকতি এবং গোলক নিক্ষেপে। নির্বাচিত হন ঢাকা বিভাগ পর্যায়ে খেলার জন্য। ঢাকা মহানগরী আন্তঃজোন-২০১৪ প্রতিযোগিতায় কলেজকে উচ্চ লম্ফে চ্যাম্পিয়ন করেন। প্রথম বর্ষের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন দ্বিতীয় বর্ষেও। খেতাব পান কলেজ শ্রেষ্ঠ এথলেটের। কলেজ জীবনের শুরুর দিকে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিয়ে প্রতিবেশীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও পারিবারিকভাবে তার কোন বাধা ছিল না। অনুশীলনের জন্য সকালে বের হলে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশীরা ভৎসনা করেছেন। তবে তিনি দমে যাননি। এগিয়ে গিয়েছেন সামনের দিকে।

এরপর ২০১৫-১৬ সেশনে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। সুযোগ এসেছে আরো বড় আঙ্গিকে নিজেকে প্রমাণের। থাকতে শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের ‘গণরুমে’। শুনেছিলেন হলে এথলেটদের সিট দেওয়াতে প্রাধান্য দেয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন প্রাধ্যক্ষের কাছে তার পূর্ববর্তী অর্জনের কোন মূল্যায়নই হয়নি। তাই মুখিয়ে ছিলেন নিজের প্রতিভা দেখোনোর জন্য। সে বছরে তার প্রিয় ইভেন্টগুলোর খেলা শেষ হয়ে গেলেও বাকি ছিলো ভলিবল খেলা। তাই তিনি ভলির অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে সুযোগ করে নেন চূড়ান্ত দলে। দলের জয়ে ভালো অবদানও রাখেন। তবে তার প্রিয় ইভেন্টগুলোর জন্য অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হলো। অপেক্ষা করেতে হলো পরবর্তী বছর পর্যন্ত।

স্বরূপে ফিরে এলেন ২০১৭ সালে। এবার অন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেন গোলক নিক্ষেপ ও উচ্চ লম্ফে। দ্বিতীয় হলেন চাকতি নিক্ষেপে। একই বছরে আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংগ্রহণ কওে উচ্চ লম্ফে প্রথম ও চাকতি নিক্ষেপে দ্বিতীয় হয়েছেন। সে বছর হলের টেবিল টেনিস ডাবলসে অংশগ্রহণ করে রানার-আপ হন। পরের বছরেও নিজের স্থান ধরে রাখেন। অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চাকতি, গোলক নিক্ষেপ ও উচ্চ লম্ফে। আন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বর্শা নিক্ষেপে প্রথম, চাকতি ও গোলক নিক্ষেপে হয়েছেন দ্বিতীয়। ব্যক্তিগত রানার-আপ হয়েছেন তিনি।

২০১৯ সাল তার অনার্স জীবনের শেষ বছর। অন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উচ্চ লম্ফে, গোলক নিক্ষেপ ও চাকতি নিক্ষেপে প্রথম হয়েছেন। বর্শা নিক্ষেপে হয়েছেন দ্বিতীয়। আন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উচ্চ লম্ফ, চাকতি, গোলক নিক্ষেপে প্রথম হন। হন ব্যক্তিগগত রানার-আপ সাথে শামসুন্নাহার হলকে এনে দেন রানার-আপের মর্যাদা। ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৯’ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় মেরাথনে তৃতীয় হয়েছেন।

২০১৭ সালে তার খেলাধুলার নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে। তা হলো সাঁতার। এই বছরে আন্তঃহল সাঁতারে ৫০ মি. ব্রেস্ট স্ট্রোকে প্রথম ও ৫০ মি. বাটার প্লাই, ৫০ মি. ব্যাক স্ট্রোকে হয়েছেন দ্বিতীয়। ব্যাক্তিগতভাবে রানার-আপও হয়েছেন তিনি। পরবর্তী বছরে আন্তঃহল সাঁতারে ৫০ মি. ব্রেস্ট স্টোক, ৫০ মি. বাটার প্লাই এবং ৫০ মি. ব্যাক স্ট্রোকে প্রথম স্থান অধিকার করে ব্যাক্তিগতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালের ন্যায় ’১৯ সালেও তিন ইভেন্টেই প্রথম হন। একই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত আন্তঃহল সাঁতারেও উল্লেখিত তিন ইভেন্টেই প্রথম হন মুনা।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যারাথন দৌড়ের সাথে মুনার প্রথম পরিচয়। এর আগে কখনো ১০০ মিটারের বেশি দৌড়ানো হয়নি তার। ‘দ্যা গ্রেট বাংলাদেশ রান’র আয়োজনে নরসিংদীতে দশ হাজার মি. দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। অংশগ্রহণ করেছেন বান্দারবনে ‘বান্দারাথন’ ট্রেইল হাফ মেরাথনে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম আল্ট্রা মেরাথনে অংশগ্রহণ করে ‘আল্ট্রা উইম্যান’ স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। টুকটাক সাইক্লিংও করেন মুনা।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তার দুটি স্বপ্ন আছে। সেগুলো হলো; ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দেয়া এবং ‘টেকনাফ টু তেতুলিয়া’ দৌড়ে পার করা। কর্মজীবনে হতে চান একজন সরকারী কর্মকর্তা। নিজ এলাকায় গড়ে তুলতে চান ক্রীড়া সংস্থা। কাজ করতে চান নবাবগঞ্জের মানুষ নিয়ে। যতদিন পারবেন খেলা চালিয়ে যাবেন মুনা।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ছে
০৫ অক্টোবর ২০১৭ 142672 বার

রাতে দেরি করে খেলেই বিপদ
১৪ অক্টোবর ২০১৭ 86013 বার