আজ রবিবার | ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ইং
| ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | সময় : সন্ধ্যা ৭:১৪

মেনু

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ: কঠোর হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ: কঠোর হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০১৯
২:১৭ অপরাহ্ণ
58 বার

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। চিহ্নিত ৭৫ স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ ক্যামেরাও বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, যাত্রীবাহী ট্রেনে একটি ঢিল ছোড়াও বড় অপরাধ। বর্বর কর্মকাণ্ড। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নানা কৌশল নিচ্ছি। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সমন্বিত উদ্যোগে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। রেলপথ সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, ৭৫ স্থানে পাথর নিক্ষেপের মতো অপরাধ বেশি হচ্ছে। এটি উদ্বেগের। যাত্রীরা আমাদের মেহমান। তাদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য আমরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’সহ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক প্রচার-প্রচারণা মঞ্চ তৈরি করা হবে। নির্ধারিত স্থানে হাইস্পিড ক্যামেরা বসানোর চিন্তাও করা হচ্ছে। রেল পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, বেঙ্গল পুলিশ, এসবি ও র‌্যাব সতর্কাবস্থায় আছে। মাঠ পর্যায়ে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে অপরাধীদের আটক করা হবে।

রেলওয়ে অপারেশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ২৩ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে শিশু জিসান জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এর আগে গত বছর রেলওয়ের টিআই শিকদার বায়েজিদের মৃত্যু হয় পাথরের আঘাতে। জানালা বন্ধ রেখেও রেহাই পান না যাত্রীরা- ছুড়ে দেয়া পাথরে জানালার কাচ ভেঙে আহত হন যাত্রীরা। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ট্রেনে যখন ভ্রমণ করছিলেন তখন ঢিলে ট্রেনটির কাচ ভেঙে যায়। এ নিয়ে মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম এ ধরনের অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

রেলপথ বিভাগ বলছে, চিহ্নিত স্থানে এমপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল, মসজিদ, মন্দিরের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। লিফলেট বিতরণ ও র‌্যালি করা হচ্ছে। মসজিদের ইমামদের চিঠি দেয়া হয়েছে, নামাজের পরে যেন তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তারপরও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধ হচ্ছে না।

প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাথর ছোড়ার ঘটনায় পাঁচ বছরে ট্রেনের দুই হাজারের বেশি জানালা-দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৩ সালে চলন্ত ট্রেনে ছোড়া ঢিলে প্রকৌশলী প্রীতি দাশ নিহত হওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেছিল। ওই কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ট্রেনে কেন পাথর নিক্ষপ করা হচ্ছে, কারা করছে, কি তাদের উদ্দেশ্য, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা- বিষয়গুলো অনুসন্ধান করার প্রয়োজন রয়েছে।

রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। যদিও এসব আইনে কারও শাস্তির নজির নেই। সূত্রমতে, সারা দেশে ৩ হাজার ২৮০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। প্রতিদিন ৩৫০টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৫ ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট নওরোজ হাসান তালুকদার জানান, শুধু আইন দিয়ে কিংবা প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ট্রেনে ঢিল ছোড়া রোধ পুরোপুরি সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা লাইন ঘেঁষা এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি। তারপরও ঢিল ছোড়া হচ্ছে। এখন আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কঠোর হচ্ছি। শিশুরা ঢিল ছোড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাদের অভিভাবককে গ্রেফতার করা হবে। তিনি বলেন, অভিভাবক, শিক্ষকসহ এলাকার গণ্যমান্য সবাইকে এ কাজে ভূমিকা রাখতে হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলপথে যেসব স্থানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে সেসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এলাকার সচেতন মানুষদের নিয়ে পাথর নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

বিবি/এমএ

রবিবারেই থেমে যাবে বৃষ্টি
২১ অক্টোবর ২০১৭ 472923 বার

সুষমা স্বরাজ ঢাকায়
২২ অক্টোবর ২০১৭ 471174 বার

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে
২৩ অক্টোবর ২০১৭ 441335 বার

সবার আগে বাংলাদেশ: সুষমা
২৩ অক্টোবর ২০১৭ 347149 বার