ঢাকা রাত ৩:৪৭, মঙ্গলবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূর নগ্ন ছবি তুলে চাঁদা দাবি, অনৈতিক প্রস্তাব!

গৃহবধূর নগ্ন ছবি তুলে চাঁদা দাবি ও অনৈতিক প্রস্তাবের দায়ে আটক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য অশ্বিনী কুমার

ঘরে আটকে রেখে গৃহবধূর নগ্ন ছবি তুলে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য অশ্বিনী কুমার বর্মণকে (৩২) আটক করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার শাসলাপিয়ালা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বিজয় কুমার বর্মণের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অশ্বিনী কুমার বর্মণকে তার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে মামলা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ওসি জানান, ওই নারী তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০ দিন আগে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জীবন চন্দ্র বর্মণ (২৬) তাকে ভুল বুঝিয়ে শহরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রেখে অশ্বিনী কুমারকে ডেকে আনেন তিনি। পরে দুজন মিলে গলায় ছুরি ধরে ওই নারীকে নগ্ন করেন।

মোবাইলে নারীর কিছু ছবিও তুলে রাখেন অশ্বিনী ও জীবন। তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানেও হাত দেন তারা। এ সময় ওই বাড়ি পাহারা দেন একই এলাকার বিলাতু (৪০) ও রাজেন্দ্র (৪০) নামে অপর দুই ব্যক্তি।

অশ্বিনী ও জীবন ধর্ষণচেষ্টা করে বলে অভিযোগে লেখেন ওই নারী। কিন্তু তার চিৎকারের কারণে ব্যর্থ হন তারা। ঘটনার পর একটি মোটরসাইকেলে করে ওই নারীকে তার স্বামীর বাড়ির পাশে নামিয়ে দেন অশ্বিনী ও জীবন। এ সময় তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকাও দাবি করেন তারা।

ওই নারী জানান, অশ্বিনী তাকে বলেন, ‘আমাদের ১ লাখ টাকা না দিলে তোমার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’ এ কারণে লোকলজ্জার ভয়ে তিনি তার স্বামীকে প্রথমে ঘটনা জানাননি।

গত ২৫ আগস্ট বিকেলে স্বামীর অনুপস্থিতিতে ওই নারীর ঘরে আসেন ইউপি সদস্য অশ্বিনী কুমার। এ সময় আবার তিনি গৃহবধূর নগ্ন ছবি তাকে দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। নিজের ভবিষ্যত চিন্তা করে ওই নারী অশ্বিনীকে স্বামীর জমানো ২০ হাজার টাকাও দেন।

টাকা হাতে পাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে বাকি ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ ও তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে চলে যান অশ্বিনী।

পরে ওই নারী তার স্বামীকে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জানালে একটি সালিস হয়। সেখানে অভিযুক্তরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে। সালিসে তারা ওই নারী ও তার স্বামীকে ফের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেব, তোমাদের কিছু করার থাকলে করো’।

এ ঘটনায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় অশ্বিনী, জীবন, বিলাতু ও রাজেন্দ্রর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ শেখ

এ বিভাগের আরও সংবাদ