আজ রবিবার | ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং
| ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | সময় : বিকাল ৪:১৯

মেনু

এনজিও ঋণের সুদহার কমছে

এনজিও ঋণের সুদহার কমছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
৯:২৪ অপরাহ্ণ
26 বার

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শর্ত পূরণের জন্য এনজিওগুলোর পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণকে সুদের হার তিন শতাংশ কমিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান সহজ এবং উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এজন্য এনজিওদের ঋণের সুদের হার ২৭ শতাংশের উপরে থাকলেও তা ২৪ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। প্রসঙ্গত, এনজিও এবং মাইক্রো ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন (এমএফআই) এর ক্ষুদ্রঋণ অপারেশন নিরীক্ষণ এবং তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় সংস্থা এমআরএ। দেশের বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা পালনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধিকতর স্বচ্ছতা কার্যকর করতে ২০০৬ সালে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) প্রতিষ্ঠা করে। আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়নের এখতিয়ার এমআরএ-কে দেয়া হয়েছে।

এমআরএ’র প্রবিধান অনুযায়ী, এনজিওদের ঋণের সুদের ২৭ শতাংশের উপরে চার্জ করা যাবে না। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি সূত্র মতে, পরিচালনা বোর্ডের ৪৬তম সভায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রদত্ত ঋণের সার্ভিস চার্জের হার যৌক্তিকিকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদকে সভাপতি করে ৮ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি রয়েছেন। ওই কমিটির প্রথম সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের এনজিও গুলোর ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি গঠন করা হয়। ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে একটি সুপারিশ প্রদান করে যৌক্তিকিকরণ কমিটি।

অর্থ মন্ত্রনালয়ের দেওয়া এমআরএ তথ্য মতে, ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ অনুযায়ী এনজিওগুলির গড় ব্যয় এখন ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে আর্থিক ব্যয় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, প্রশাসনিক এবং অন্যান্য খরচ ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং এলএলপি ব্যয় ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এরপর গত ১৯ জুন এমআরএ পরিচালনা বোর্ডের সভায়-কমিটির সুপারিশের আলোকে এনজিও ঋণের সুদের হার ২৪ শতাংশের পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান আমলেন্দু মুখার্জি বলেন, দেশের ৬৭৯ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার আর্থিক বিবৃতি বিশ্লেষণের পর কর্তৃপক্ষ আরও সুদের হার কমিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এনজিও ঋণের গড় সুদের হার মাত্র ১১ শতাংশ। আফ্রিকান দেশের নিম্ন জনসংখ্যার ঘনত্বের ঋণের সুদের হারও মাত্র ১৫ শতাংশ। এদিকে, ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কমানো হলে স্থানীয় এনজিওগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে যাবে।

যা দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার পথ বন্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় এনজিও প্ল্যাটফর্মের ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফোরামের পরিচালক আব্দুল আওয়াল বলেন, ঋণের সুদের হার হ্রাসে ক্ষুদ্র এনজিওগুলির মোট ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার জন্য দাবি জানাচ্ছি। অর্থ মন্ত্রনালয় সূত্র মতে, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শর্ত পূরণে ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে। ক্ষেত্রে এমআরএ প্রস্তাবনাটি অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ছে
০৫ অক্টোবর ২০১৭ 98081 বার

বিকাশে কেনা যাবে বিমান টিকেট
১২ অক্টোবর ২০১৭ 61308 বার