ঢাকা বিকাল ৩:২৯, সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং, ১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রথম বছরেই ১২ লাখ গ্রাহক ইভ্যালির

অনলাইন মার্কেট ইভ্যালি যাত্রার প্রথম বছরেই নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার বিক্রেতা প্লাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। গ্রাহক পর্যায়ে কঙ্ক্ষিত পণ্য সঠিকভাবে পণ্য পৌঁছানো ও ভালো সেবা দেয়ায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। গত ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রার পর অল্প কিছুদিনের মধ্যে গ্রাহকবান্ধব নানা অফারে বাজারে আলোড়ন তৈরি করেছে বলে দাবি করলেন ইভ্যালির সিইও। মাত্র এক বছরেই গুগল প্লেস্টোর থেকে ইভ্যালি অ্যানড্রয়েড অ্যাপ পাঁচ লাখের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। নতুন বছরে ইভ্যালি গ্রাহকসেবা উন্নয়ন ও ই-কমার্স উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইভ্যালি বিশ্বাস করে এখানে সবার একটি স্বপ্ন আছে যা পূরণ হবে।’

প্রতিষ্ঠানটিতে এখন দুই শতাধিক কর্মী প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। এর মধ্যে অর্ধেকই নারী কর্মী। তবে এখনো বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এ খাতে। এসব সমস্যা আগামী দিনে সমাধানে কাজ করতে চায় ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ মাস কাজ করে নিজেদের ওয়েবসাইট উন্নয়ন করেছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে আগামীতে নিজেদের ওয়েবসাইট আরো উন্নত করতে চায় ইভ্যালি।

ইভ্যালির উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাসেলের লেখাপড়া রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এইচএসসি শেষ করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর। এরপর ২০১১ সালে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি। মাঝখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ। ঢাকা ব্যাংকে ছয় বছর থাকার পর ছেড়েছেন চাকরি। এর মধ্যে টুকটাক ব্যবসা করার কাজে মনোযোগ থেকে অনলাইন শপিং মল ইভ্যালির উদ্যোক্তা।

দেশের ই-কমার্স শিল্পের সম্ভাবনা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে ই-কমার্স খাতের একটি বড় বাজার। এই খাতকে কেন্দ করে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, কর্মসংস্থান বাড়ছে। ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। ই-কমার্স এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক বা ঢাকার বাইরে বড় কিছু শহরে। এটা যখন দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে যাবে তখন এই আকার কেমন হবে? এটা একটু ভাবলেই বোঝা যায় যে দেশে ই-কমার্স কতটা সম্ভাবনাময়।’

তৃণমূলে পাঁচ হাজার উদ্যোক্তা তৈরিতে হচ্ছে হাব: মোহাম্মদ রাসেল সিইও ইভ্যালি।

প্রযুক্তির কারণে ই-কমার্স খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে ইভ্যালি খাপ খাইয়ে চলছে বলে জানালেন মোহাম্মদ রাসেল। ই-কমার্স খাতের প্রসারে দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন ইভ্যালির সিইও। তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে এই খাত এখনো শিখছে। কাজেই এখানে নিজেদের আরো উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এই খাত সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদের উন্নয়নে আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছি। ই-ক্যাব তরুদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আমরা ইভ্যালির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি।

দেশে পরিচালিত ই-কমার্সগুলোর মধ্যে ফেসবুক কমিউনিটিতে আমাদের গ্রুপের সদস্য সংখ্যাই সর্বাধিক। নতুন বছরে এবং সামনের দিনগুলোর জন্য এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এর জন্য আমরা ‘হাব’ চালু করতে যাচ্ছি। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ইভ্যালি হাব থাকবে। এতে করে প্রচুর গ্রাহক এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।’

ই-কমার্স খাতে ভোক্তা অধিকার কতটা সংরক্ষিত হচ্ছে জানতে চাইলে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘কোন ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সেটি একটা ইস্যু হয়ে যায়। এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তো আছেই। তাদের কড়া চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হয়। কাজেই এই খাতে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষিত হয় বলে আমার অভিমত।’

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসাকে বৈশ্বিক রূপ দিতে ইভ্যালি কাজ করছে বলে জানালেন এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে ই-কমার্স কম্পানি আলিবাবা, অ্যামাজন, ই-বে সবাই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাবসায়িক মডেল অনুসরণ করে চলে। ইভ্যালিতে এই তিন কম্পানির বিজনেস মডেল দাঁড় করানো হয়েছে। এখানে ছোটখাটো জিনিস থেকে সব ধরনের জিনিসই গ্রাহকরা পাবেন। তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব আমাদের চ্যানেলের মাধ্যমে সঠিক পণ্যের ডেলিভারি পাবেন। তা ছাড়া ইভ্যালি কানেক্ট নামে আমাদের একটি অপশন আছে; যার মাধ্যমে গ্রাহকরা ফেসবুকে চ্যাট করার মতো সেলারদের সঙ্গে পণ্য নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।’

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘ই-কমার্সে কেনাকাটা করা যে ব্যয়বহুল নয় বরং সাধ্যের মধ্যে, তেমন একটি বিশ্বাস আমরা গ্রাহকদের মাঝে দিতে পেরেছি। আমরা একটি ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, যা এ দেশে ই-কমার্সে একটি টেকসই ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

ইভ্যালির সফলতার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাসেল বলেন, ‘ইভ্যালি দেশীয় উদ্যোগ, দেশের একটি প্রতিষ্ঠান। সবাইকে নিয়ে আমরা আরো সামনের দিকে অগ্রসর হতে চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ