আজ শুক্রবার | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | সময় : ভোর ৫:০৭

মেনু

আপনার টাকার মালটা অরজিনাল ছিলো R7 ইয়াবা

বাবার সঙ্গে নীল রহমান

বাবার রক্ত যোগাতে অবিশ্বাস্য প্রতারণার শিকার ছেলে

আপনার টাকার মালটা অরজিনাল ছিলো R7 ইয়াবা

বাবুল হৃদয়
সোমবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
২:৫৪ অপরাহ্ণ
964 বার

ঢাকা: মুমুর্ষ বাবাকে বাঁচাতে রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য প্রতারণার শিকার হলেন ছেলে নীল রহমান। প্রতারণার বর্ণনা দিতে গিয়ে নীল বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ঘটনা ২১ আগস্টের। ট্রমা সেন্টারে বাবা মুমূর্ষু । হিপ জয়েন্টের অপারেশন। ২ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। রাত ১২টার দিকে জানতে পারলাম সকাল ৮ টার মধ্যে হাসপাতালে রক্তের জমা দিতে হবে। রক্তের গ্রুপ লিখে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিলাম। পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই ফোন দিয়ে রক্ত দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করল। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ততার কারনে ব্যাটে বলে মিলছে না।

রাত প্রায় ৩টা বেজে গেল। আমার বুক ধরপর ধরপর করে কাঁপছে। এতো কম সময়ের মধ্যে রক্ত কিভাবে জোগাড় করবো। এর মধ্যে ১টি নাম্বার থেকে ফোন এলো। বলল ভাই আমরা ২জন রক্ত দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু বাসা অনেক দূরে। আমি বললাম কোথায়? ওরা বলল গাজীপুর। আমি বললাম আমাকে কি করতে হবে বলেন আমি তাই করবো। ওরা বলল আমাদের যাওয়া আসার ভাড়া দিলেই হবে। আমি কিছু না বুঝেই ওদের বিকাশে ২ হাজার টাকা পাঠালাম। আর বললাম ভাই বেশি দেরি করবেন না।

১ঘন্টা পরে ফোন দিলাম আর জিজ্ঞাস করলাম ভাই কতদূর? ওরা বললো এইতো ভাই কাছাকাছি চলে আসছি। ভোর ৫টায় আমি আবার ফোন দিলাম ওরা ফোন রিসিভ করলো কিন্তু আমার প্রশ্নের জবাব দিল না। ওপাস থেকে শুনতে পেলাম হাসির শব্দ। কেউ একজন পাশ থেকে বলে উঠলো ভাই আপনার টাকার মালটা অরজিনাল ছিলো R7 (ইয়াবা)।

আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় আর বোকা সন্তান মনে হতে লাগলো। ফিরে এলাম হাসপাতালে। আসতেই মা জিজ্ঞাস করলো রক্তের ব্যাবস্থা হয়েছে বাবা? মাকে বললাম হ্যা মা হয়েছে। মা একটা হাসি দিয়ে বলল তাহলে আর কোন টেনশন নাই। আমি মনেমনে ভাবলাম মায়েরা এখনো কতো সরল ভাবে এই জটিল পৃথিবীটাকে বিশ্বাস করে। কিছুক্ষণ মায়ের দিয়ে তাকিয়ে রইলাম। আমার এবার চোঁখ গেল ঘড়ির দিকে ৬ টা বেজে গেছে। রাজ্যের ক্লান্তি যেন চোঁখে ভড় করলো। কিছুতেই চোঁখ মেলে রাখতে পারছি না।

আবারো ফোন বেজে উঠলো অপরিচিত নাম্বার। আমি বললাম কে বলছেন? ওপাশ থেকে বলল ভাইয়া ফেসবুকে দেখালাম আপনার বাবার সকাল ৮ টার মধ্যে রক্তের প্রয়োজন। আমি বললাম আপনাকে যাওয়া আসার ভাড়া দিতে হবে? ও বলল কেন ভাইয়া আমার তো বাইক আছে। তাছাড়া আমি এখন ট্রমা হাসপাতালের সামনে দাড়িয়ে আছি। আমি ভাড়া দিয়ে কি করবো!? আমি নিচে এসে দেখি কালো হাতাকাটা গেঞ্জি পড়া একটি ছেলে বাইক নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই বলল ভাইয়া আমার সকাল ৯ টায় অফিস। যদি একটু তারাতারি ছাড়তে পারেন আমি খুব উপকৃত হবো। কারন আমার ৩ বছরের চাকরি লাইফে অফিসে আমার কোন লেইট নাই। আমি ওকে নিয়ে রক্ত নেয়ার ব্যাবস্থা করলাম।

যখন রক্ত দিচ্ছিলো আমি ওর চোঁখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে কি নিস্পাপ ২টা চোঁখ! রক্ত দেয়া শেষে ও যাওয়ার জন্যে অস্থির হয়ে উঠলো। আমি বললাম ভাইয়া অন্তত নাস্তা করে যাও। ও বলল ভাইয়া আপনি মনে হয় খুব বিব্রত হচ্ছেন। আমি নাস্তা খেতে আসিনি, আমি এসেছি একজন বাবাকে সাহায্য করতে।

তাছাড়া আগেইতো বলেছি ভাইয়া আমি কখনো অফিসে দেরি করে যাইনা বলে বসের কাছে আমার একটা সুনাম আছে। সাথেসাথে বাইক ষ্টার্ট দিলো আর আমার দিকে তাকিয়ে বলল দোয়া করি আপনার আব্বা তারাতারি সুস্থ হয়ে উঠুন। সবার দোয়ায় বাবা আজ সুস্থ।
নীল রহমান বলেন, সে সময়ের এই ঘটনা এখনো বার বার মনে পড়ে তখন ভাবি সামান্য কিছু টাকার জন্য এমন জঘন্য কাজ করতে পারে?

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

রাজধানীতে ২ ডাকাত আটক
১১ নভেম্বর ২০১৭ 53502 বার