আজ বৃহস্পতিবার | ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ১১:২৪

মেনু

আইওআরএ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন: টেকসই সমুদ্র অর্থনৈতিক বেষ্টনী গড়ে তোলা জরুরি

আইওআরএ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন: টেকসই সমুদ্র অর্থনৈতিক বেষ্টনী গড়ে তোলা জরুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি
শনিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
৬:৩১ পিএম
504 বার

তৃতীয় আইওআরএ সমুদ্র অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সমুদ্র অর্থনীতিবিষয়ক তৃতীয় আইওআরএ (ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইওআরএ সদস্য দেশগুলোর প্রতি সমুদ্র তলদেশের অনাবিষ্কৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অভিন্ন টেকসই সমুদ্র অর্থনৈতিক বেষ্টনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান সময়োচিত।
সমুদ্রে অব্যবহৃত ও অ-উন্মোচিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে, যা আইওআরএ সদস্য দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কমরস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মরিশাস, মোজাম্বিক, ওমান, সিশেলস, সিঙ্গাপুর, সোমালিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন- এ ২১টি দেশ নিয়ে আইওআরএ গঠিত হয় এবং সংস্থাটির ডায়ালগ পার্টনার হচ্ছে জাপান, জার্মানি, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও মিসর।

সমুদ্রকেন্দ্রিক বিভিন্ন শিল্প যেমন- পণ্য পরিবহন, মৎস্যশিল্প, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্রবন্দর, পর্যটন, মেরিন জেনেটিক রিসোর্সেস, মেরিন বায়োটেকনোলজি ইত্যাদি আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রাখছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং তেল পরিবহনের ৬০ শতাংশ সাগর-মহাসাগরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হল, মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে সমুদ্র আজ হুমকির সম্মুখীন।

মূলত মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ আহরণ, পরিবেশ দূষণ, তেল নিঃসরণ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্যরে দূষণ, শব্দদূষণ, সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমুদ্রের ওপর। এর ফলে সাগর ও মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

সাগর-মহাসাগরগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের প্রায় ৯০ শতাংশ শোষণ করে থাকে। কাজেই এটা স্পষ্ট- ‘সমুদ্রবাস্তু’ ধ্বংস হলে মানবজাতির অস্তিত্বও হুমকির সম্মুখীন হবে।

কাজেই সমুদ্রকে কেন্দ্র করে সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে সমুদ্রের জৈবসম্পদ সংরক্ষণে মৎস্য আহরণের ক্ষতিকারক সব পদ্ধতি ও উপায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পাশাপাশি বছরের ৬ মাস মা ইলিশ ও মাছের পোনা আহরণ এবং সমুদ্রের নির্দিষ্ট অঞ্চলে বছরে ৬৫ দিন সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করার পর এর ব্যাপক সুফল লক্ষ করা যাচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এর ফলে সমুদ্রের তলদেশ ও এর বিস্তৃত বিশাল উপকূলজুড়ে যে সম্পদরাজি ও সম্ভাবনা মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিল, তা ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে।

সমুদ্রের এই সম্পদরাজি ও সম্ভাবনাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আইওআরএ সদস্য দেশগুলোর বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য অফুরন্ত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থায় একীভূত টেকসই সমুদ্র অর্থনীতির সর্বোচ্চ সুফল পেতে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আইওআরএ গঠনের প্রাক্কালে সদস্য দেশগুলোর টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ আহরণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল; এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা লাভ করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

রবিবারেই থেমে যাবে বৃষ্টি
২১ অক্টোবর ২০১৭ 726408 বার

সুষমা স্বরাজ ঢাকায়
২২ অক্টোবর ২০১৭ 724441 বার

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে
২৩ অক্টোবর ২০১৭ 596387 বার

সবার আগে বাংলাদেশ: সুষমা
২৩ অক্টোবর ২০১৭ 457677 বার